Skip to content

গরুর কৃমি রোগ বা গরুর কৃমি কত প্রকার? গরুর গোল কৃমি, গরুর ফিতা কৃমি, পাতাকৃমি। গরুর পরজীবী রোগ কি কি? গরুর গায়ে পোকা, গরুর গায়ে উকুন, আঁটালি

গরুর কৃমি রোগ বা গরুর কৃমি কত প্রকার? যেমন: গরুর গোল কৃমি, গরুর ফিতা কৃমি, গরুর ফিতা পাতাকৃমি। গরুর পরজীবী রোগ কি কি? যেমন: গরুর গায়ে পোকা, গরুর গায়ে উকুন, আঁটালি। আলোচনা ও বর্ণনা।

গরুর কৃমি রোগ বা গরুর কৃমি কত প্রকার? যেমন: গরুর গোল কৃমি, গরুর ফিতা কৃমি, গরুর ফিতা পাতাকৃমি। গরুর পরজীবী রোগ কি কি? যেমন: গরুর গায়ে পোকা, গরুর গায়ে উকুন, আঁটালি। আলোচনা ও বর্ণনা।

আমাদের দেশে প্রায় শতকরা ৮০ভাগ পশু বিভিন্ন প্রকারের কৃমি রোগে ভুগে থাকে। পশুর পরজীবীকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১। দেহাভ্যন্তরের পরজীবী বা অন্তঃপরজীবী।
২। বহিঃদেহের পরজীবী বা বাহ্যপরজীবী।

দেহাভ্যন্তরের পরজীবী বা গরুর কৃমি কত প্রকার?

গরুর কৃমি রোগ বা গরুর কৃমিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন-
১) গোলাকৃমি।
২) ফিতাকৃমি।
৩) পাতাকৃমি। ক-যকৃত পাতাকৃমি খ-পাকস্থলীর পাতাকৃমি।

গোলকৃমি (Round worm)

♦ গৃহপালিত পশুকে বহুধরনের গোলকৃমি আক্রমণ করে থাকে। যেমন- পাকস্থলীর কৃমি, অন্ত্রনালির কৃমি, সুতাকৃমি, পিত্তকৃমি, ফুসফুসের কৃমি।

♦ গোলকৃমি পশুর পাকস্থলী,অন্ত্রনালি,শ্বাসযন্ত্র ও অন্যান্য অংশে বাস করে এবং সেসব স্থানে ডিম পারে। পশুর পায়খানার সাথে সেসব ডিম মাটিতে পড়ে। সঁতসেঁতে বা অনুকুল পরিবেশে এ সব ডিম ফুটে লার্ভা বা শূক হয়। এসব শুক মাটি, ঘাস, পাতলা লেগে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে পরজীবীতে রূপান্তরিত হয়। এসব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শূক পশু ঘাস

♦ পাতার সাথে খেয়ে ফেলে, ফলে এগুলো পশুর দেহের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে পাকস্থলী ও অন্ত্রনালিতে গিয়ে বয়স্ক পরজীবীতে পরিণত হয়ে ডিম পাড়ে এবং এভাবে বংশবিস্তার করে।

♦ কৃমি যে পশুর পেটের মধ্যে বাস করে সে পশুর হজমকৃত খাদ্য খেয়ে ফেলে। ফলে পশুর পুষ্টিহীনতা হয়। পশুর ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। শরীরের ওজন কমতে থাকে। গায়ের লোম রুক্ষ দেখায়। পাতলা পায়খানা হয়। পরজীবী পশুর রক্ত চুষে খায় ফলে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়। বাছুরের অন্ত্রনালির বড় গোলকৃমি এক জায়গায় জড়াে হয়ে অন্ত্রনালির পথ বন্ধ করে দেয় ফলে পশু মারা যায়।

♦ কৃমির আক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ খাওয়াতে হবে। বাছুরের বয়স ৩ মাস হলেই পশুকে নিয়মিত কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে শুরু করতে হবে। গোয়াল ঘরের গোবর ও আবর্জনা নিয়মিত পরিস্কার করে দুরে গর্ত করে রাখতে হবে। গোয়াল ঘর শুকনা রাখতে হবে। স্যাতসেঁতে কাদাপানিযুক্ত মাঠে চরতে দেওয়া যাবে না।

ফিতাকৃমি (Tape warm)

♦ এ কৃমি সব ধরনের গৃহপালিত পশুতেই দেখা যায়। এরা সাধারণত পশুর অন্ত্রনালিতে বাস করে। ফিতাকৃমি দেখতে ফিতার মত বেশ লম্বা। অনেক কৃমি লম্বায় ১৫মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

♦ ফিতাকৃমির রোগজনিত লক্ষণ অনেকটা গোলকৃমির রোগজনিত লক্ষণের মত। অধিক কৃমি বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে পশুর মৃত্যুর কারণ হয়। তবে বাছুরে অধিক কৃমি থাকতে পারে। এতে হজমে বিঘ্ন ঘটে। পশুর পেট ফুলা, উদরাময়, সাধারণ দুর্বলতা ও অবস্থার অবনতি হয়ে থাকে।

♦ ফিতাকৃমির চিকিৎসার জন্য বাজারে বহু ধরনের ঔষধ পাওয়া যায়। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক ঔষধ খাওয়ালে কৃমি ধ্বংস করা যাবে।

পাতাকৃমি(Fluke)

♦ এ ধরনের কৃমি দেখতে পাতার মতো চ্যাপ্টা হয়। গৃহপালিত পশুতে ৩ ধরনের পাতাকৃমি হয়ে থাকে। যেমন- ১। যকৃতের পাতাকৃমি বা লিভার ফুক, ২। পাকস্থলীর পাতাকৃমি ও ৩। রক্তের পাতাকৃমি।

♦ এসব পাতাকৃমির জীবনচক্র মধ্যপোষক শামুকে সম্পন্ন হয়। যকৃত বয়স্ক পাতা কৃমি পিত্তনালিতে থাকে। সেখানে কৃমি অসংখ্য ডিম মলের সাথে পাড়ে। ডিম স্যাতস্যাতে জায়গায় অথবা কাদাপানিতে পড়ে কিছুদিনের মধ্যে লার্ভা বা শূক হয়। শূক শামুকে প্রবেশ করে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ার পর বয়স্ক শূক বের হয়ে জলাভূমিতে ঘাস লতাপাতায় লেগে থাকে।

♦ ঘাস লতা-পাতার সাথে পশু এগুলো খেয়ে ফেলে। তখন ছোট পাতাকৃমি হয়ে পশুর অন্ত্রনালিতে প্রবেশ করে। যকৃতের পাতাকৃমি অন্ত্রনালি হতে পশুর বিভিন্ন অঙ্গ ছেদ করে যকৃত যায়। কিছুদিন যকৃতে থাকার পর পিত্তনালিতে প্রবেশ করে। পিত্তনালিতে পূর্ণ বয়স্ক কৃমি অসংখ্য ডিম পাড়ে।

♦ পাকস্থলী পাতাকৃমি পাকস্থলী থেকে সেখানে ডিম পাড়ে। ডিম পায়খানার সাথে মাটিতে পড়ে লার্ভা হয়। লার্ভা শামুকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে আবার শামুক থেকে বের হয়ে ঘাস, লতা-পাতার সাথে পশুর পাকস্থলী হতে ক্ষুদ্রন্ত্রে যায়। সেখান থেকে বয়স্ক কৃমি হয়ে আবার পাকস্থলীতে এসে অবস্থান করে এবং সেখানে ডিম পাড়ে।

♦ রক্তের পাতাকৃমি গরুর নাকের শিরায় বাস করে সেখানে ডিম পাড়ে, ডিম পরিপাকতন্ত্রে যেয়ে পায়খানার সাথে বের হয়। অন্যান্য পাতাকৃমির মতোই শামুকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে পশুর অন্ত্রনালিতে যায়। সেখানে থেকে বিভিন্ন অঙ্গ ভেদ করে নাকের শিরায় প্রবেশ করে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে সেখানে থাকে ও ডিম পাড়ে।

♦ পাতাকৃমির আক্রমণে অনেক ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। যকৃত পাতাকৃমি’র আক্রমণে যকৃত ও পিত্তনালি এবং বিভিন্ন অঙ্গে প্রদাহ হয়। পশুর হজমে বিঘ্ন ঘটে। দুর্গন্ধযুক্ত তরল মলত্যাগ করে। পশু দুর্বল হয়ে কর্মশক্তি ও উৎপাদনশক্তি হারিয়ে ফেলে। অধিক কৃমির আক্রমণে বাছুর তাড়াতাড়ি মারা যায়।

পাকস্থলীর পাতাকৃমি’র আক্রমণে পশুর যেসকল ক্ষতি হয়:

  • হজমের ব্যাঘাত ঘটে,
  • দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত মিশ্রিত তরল পায়খানা হয়।
  • পশুর রক্তশূণ্যতা দেখা দেয় ফলে পশু দুর্বল হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
  • আক্রান্ত পশুর তুতনীর নীচে ফুলা দেখা যায়।
  • রক্তে পাতাকৃমির আক্রমণে নাকের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • নাক হতে রক্ত ঝরে। নাসারন্ধ্রে গোটা উঠে নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়।
  • পশুর শ্বাসকষ্ট হয় এবং নাক দিয়ে ঘড়ঘড় শব্দ হয়। পশুর রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।
  • পশুর খাওয়া কমে যায়। ফলে পশু দুর্বল হয়ে কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
  • দীর্ঘদিন রোগে ভুগে পশু মারা যায়।

♦ কৃমিরোগ প্রতিরোধের জন্য পশু চিকিত্সকের পরমর্শমত নিয়মিত ওষুধ খাওয়াতে হয়। গোয়াল ঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং শুকনা রাখতে হবে। স্যাতস্যাতে কাদা পানিযুক্ত মাঠে পশু চরতে দেওয়া যাবেনা। তাছাড়াশামুক ধ্বংস করার জন্য ছুঁতে ব্যবহার করা যায়।

 

গরুর বহিঃপরজীবী রোগ কি কি?

বহিঃদেহের পরজীবী পশুর ত্বকে বাস করে পশুর যথেষ্ট ক্ষতি করে থাকে। এ জাতীয় পরজীবীর আক্রমণে পশুর চামড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের গৃহপালিত পশুতে বহু ধরনের বহিঃ পরজীবীর আক্রমণ হয়ে থাকে।
যেমন:
১। আঁটালি,
২। উকুন,
৩। মাছি।

আঁটালি

♦ বহিঃদেহের পরজীবীর মধ্যে আঁটালি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এ পোকা গৃহপাতিল পশুতে অত্যধিকদেখা যায় এবং ক্ষতি বেশি করে। এরা পশুর ত্বকে বাস করে রক্ত চুষে খায়।

♦ এসব আঁটালি বহু রোগজীবাণু বিশেষ করে প্রটোজোয়ার জীবাণু সুস্থ পশুতে সংক্রামিত করে রোগের সৃষ্টি করে।

উকুন

♦ আমাদের দেশের গৃহপালিত পশুতে উকুনের আক্রমণ বেশ দেখা যায়। উকুনের আক্রমণে পশুর শরীর খুব চুলকায়। ফলে পশু জিনিসের সাথে শরীর ঘসে ক্ষতের সৃষ্টি করে।

♦ চোষা উকুন পশুর ত্বকের রক্ত চুষে খায়। ফলে পশু রক্তশূণ্যতায় ভোগে।

মাছি

♦ বিভিন্ন ধরনের মাছি গৃহপালিত পশুকে আক্রমণ করে থাকে, যেমন-আস্তাবলের মাছি, মহিষের মাছি, ঘোড়ার মাছি, উড়ন্ত মাছি ইত্যাদি। মাছির পশুর শরীরে বসে তাদের অস্থির করে তোলে। অনেক মাছি পশুর ত্বকে বসে রক্ত চুষে খায়।

♦ মাছি সাধারণত পশুর দেহের ক্ষতে বসে সেখানে ডিম পাড়ে ফলে ক্ষতে পচন ধরে। ক্ষত শুকায় না। মাছি ক্ষতে বসলে সেসব স্থান চুলকায়। পশু সেসব স্থান শক্ত কিছুর সাথে ঘসে বা জিহ্বা দিয়ে চেটে ঘা আরও বাড়িয়ে দেয়। মাছির উপদ্রব পশুর খাওয়া এবং দুধ প্রদানে ব্যাঘাত ঘটে।

যে সকল দর্শক আমাদের চ্যানেলের নতুন যদি পশুদের বিভিন্ন রকম রোগ তাদের চিকিৎসা এবং মেডিসিন সম্পর্কে আরও জানতে চান তারা খামারিয়ান.কম এ নিয়মিত ভিজিট করবেন এবং আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটিকেও সাবস্ক্রাইব ও আমাদের ফেসবুক পেজটিতে একটি লাইক দিয়ে রাখবেন রাখবেন। তাহলে নতুন কোন পোষ্ট করা হলে তা সহজেই বুঝতে পারবেন। আমাদের আজকের এই আলোচনা এখানেই শেষ করে দিচ্ছে সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন খামারিয়ান এর সাথেই থাকুন।

খামারিয়ান.কম, সর্বদায় খামারিদের পাশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *