Skip to content

ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট ছোঁয়াচে গরুর কি কি রোগ হয়? উক্ত গরুর রোগ ও তার প্রতিকার

ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট ছোঁয়াচে গরুর রোগ ও তার প্রতিকার সমূহ জানুন। যেমন: গরুর ওলান প্রদাহ রোগ, গরুর ওলানের রোগ, গরুর গলাফুলা রোগ, গরুর তড়কা রোগের লক্ষণ ইত্যাদি। গরুর রোগ প্রশ্ন উত্তর: গরুর কি কি রোগ হয়? গরুর বিভিন্ন রোগ।

ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ছোঁয়াচে গরুর কি কি রোগ হয়? গবাদিপশুতে সংক্রামিত হয় এমন গরুর রোগ ও তার প্রতিকার নিয়ে নতুন খামারি ভাইদের উদ্দেশ্যে আজকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরব আশা আপনাদের উপকারে আসবে।

ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট ছোঁয়াচে গরুর বিভিন্ন রোগ এর মধ্যে আমাদের দেশের জন্য মারাত্ম রোগগুলো হলো-

(১) তড়কা (Anthrax)

(২) গলাফুলা (Haemorrhagic septicaemia)

(৩) বাদলা (Black quarter)

(৪) ওলান প্রদাহ (Mastitis)

(৫) বাছুরের নিউমোনিয়া (Calf pneumonia)

 

১. তড়কা (Anthrax)

তড়কা, ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট ছোঁয়াচে গরুর রোগ ও তার প্রতিকার সমূহ জানুন। যেমন: গরুর ওলান প্রদাহ রোগ, গরুর ওলানের রোগ, গরুর গলাফুলা রোগ, গরুর তড়কা রোগের লক্ষণ ইত্যাদি। গরুর রোগ প্রশ্ন উত্তর: গরুর কি কি রোগ হয়? গরুর বিভিন্ন রোগ।

রোগাক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ,খাদ্যদ্রব্য,লালা ও অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্য,কীট পতঙ্গ, চামড়া,হাড় এবং নিঃশ্বাসের মাধ্যমে রোগ জীবাণু সুস্থ পশুতে সংক্রমিত হয়ে থাকে।

গরুর তড়কা রোগের লক্ষণ

পশু হঠাৎ মাটিতে ঢলে পড়ে। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। খিচুনী দিয়ে পশু মারা। যায়। অনেক সময় লক্ষণ দেখা দেওয়ার পুর্বেই পশু মারা যায়। মৃত্যুর সাথে সাথে পেট ফুলে যায়। নাক,মুখ কান ও মলদ্বার দিয়ে আলকাতরার মত রক্তযুক্ত বের হয়।

প্রতিকার প্রতিরোধ

অসুস্থ পশুর চিকিৎসা করে লাভ হয়না। তবে লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে এন্টিবায়ােটিক (পেনিসিলিন) ইনজেকশন দিয়ে ফল পেতে দেখা যায়।

রোগ প্রতিরোধের জন্য-১। নিয়মিত টিকা প্রদান ও ২। পশু চিকিৎসকের পরামর্শমত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হয়। মৃত পশু পুড়িয়ে বা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়।

 

২. গরুর গলাফুলা রোগ (Haemorrhagic septicaemia)

গরুর গলাফুলা রোগ

রোগাক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ, খাদ্যদ্রব্য,লালা, মল মূত্র ও ব্যবহার্য দ্রব্যের মাধ্যমে রোগ জীবাণু সুস্থ পশুতে সংক্রমিত হয়ে থাকে।

লক্ষণ

আক্রান্ত পশুর ঘাড়, মাথা ও গলা ফুলে যায়। শরীরের তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়। পেটে ব্যাথা হয় এবং উদরাময় দেখা দেয়। শ্বাসকষ্ট হয়। নাক দিয়ে শেষ্ম ঝরে। পশু গলা বাড়িয়ে হা করে জিহ্বা বের করে নিঃশ্বাস নিতে চেষ্ট করে। কিছু খেতে পারে না এবং জাবরকাটা বন্ধ হয়ে যায়। দুধ দেয়া বন্ধ হয়ে যায় ও আক্রান্ত হওয়ার ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে পশু মারা যায়।

প্রতিকার প্রতিরোধ

অসুস্থ পশুর চিকিৎসা করে লাভ হয়না। তবে লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে এন্টিবায়ােটিক (পেনিসিলিন) ইনজেকশন দিয়ে ফল পেতে দেখা যায়।

রোগ প্রতিরোধের জন্য- ১। নিয়মিত টিকা প্রদান ও ২। পশু চিকিৎসকের পরামর্শমত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হয়।

 

৩. বাদলা (Black quarter)

গরুর বাদলা রোগ

সাধারণত ৬ মাস থেকে ২ বৎসর বয়সে এই রোগ দেখা যায়। রোগাক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ, খাদ্যদ্রব্য,লালা, মল মূত্র ও অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্যের মাধ্যমে রোগ জীবাণু সুস্থ পশুতে সংক্রমিত হয়ে থাকে।

লক্ষণ

পশু হঠাৎ খোঁড়াতে থাকে। শরীরের পিছনের অংশে মাংসপেশী ফুলে যায়। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফুলা জায়গায় চামড়া খসখসে হয়। চাপ দিলে পশু ব্যাথা অনুভব করে। হাতে গরম অনুভূত হয় এবং চাপ দিলে ফুলা জায়গায় চড় চড় শব্দ হয়। আস্তে আস্তে ফুলা স্থান কালচে রং এর হয়ে যায়। আক্রান্ত জায়গা কাটলে দুর্গন্ধযুক্ত গাঢ়, লাল বা কালচে রং এর ফেনা বের হয়। ফুলা জায়গায় পচন ধরে কয়েক ঘন্টার মধ্যে পশু মারা যায়।

প্রতিকার প্রতিরোধ

রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়া সাথে সাথে সালফোনেমাইড অথবা এন্টিবায়ােটিক (পেনিসিলিন) ইনজেকশন দিয়ে ফল পাওয়া যায়।

১/৬ মাস বয়সের পুর্বে টিকা টিকা প্রদান ও ২। পশু চিকিৎসকের পরামর্শমত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হয়।

 

৪. গরুর ওলান প্রদাহ রোগ (Mastitis)

অধিক দুধ দেওয়া গাভীতে এ রোগ হতে দেখা যায়। অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান, ময়লা হাতে দুধদোহন, বাটে বা ওলানে আঘাত বা দুধ জমাট বেঁধে থাকা প্রভৃতি কারণে রোগ সংক্রমিত হয়ে থাকে।

লক্ষণ

ওলান লাল হয়ে যায়। ওলান হাত দিয়ে স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হয়। পশু ব্যাথা অনুভব করে। দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। দুধ ছানার মত ছাকা হয়। দুধের সাথে রক্তও বের হতে পারে। ওলান শক্ত হয়ে যায়। ওলান ও বাট নষ্ট হয়ে গাভীর দুধ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গাভী অকেজো হয়ে যায়।

প্রতিকার প্রতিরোধ

ওলানের সমস্ত দুধ বের করে বাটের ছিদ্র পথে ঔষধ প্রয়ােগ করতে হয়। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ মত ব্যবস্থা নিতে হয়, রোগ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবস্থা মেনে চলতে হয়।

 

৫. বাছুরের নিউমোনিয়া (Calf pneumonia)

সাধারণত অল্প বয়সের বাছুরে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে।

লক্ষণ

বাছুর ঘন ঘন নিঃশ্বাস নেয়। বাছুরের শুকনা কাশি হয়, নাক দিয়ে সর্দি ঝরে। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। হৃদপিন্ডের স্পন্দন বেড়ে যায়। রোগের শেষ পর্যায়ে শ্বাস কষ্ট বেড়ে বাছুর মারা যায়।

প্রতিকার প্রতিরোধ

বাছুরের ঠান্ডা না লাগার জন্য খড় দিয়ে বিছানা করে দিতে হয়। লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে এন্টিবায়ােটিক (পেনিসিলিন) ইনজেকশন দিয়ে ভাল ফল পেতে দেখা যায়।

রোগ প্রতিরোধের জন্য- পশু চিকিৎসকের পরামর্শমত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন এখানে:  ভাইরাস সৃষ্ট ছোঁয়াচে গরুর রোগ সমূহ

এই পোষ্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে স্টার এ ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

(চাইলে পোষ্টটি শেয়ার করতে পারেন)

Leave a Reply

Your email address will not be published.