Skip to content

ছাগলের খামার কিভাবে করতে হয়? ছাগলের খামার করে সফল হবার মন্ত্র

ছাগলের খামার থেকে সফলতা আনতে গেলে কত গুলি পরিকল্পিত পরিকল্পনা থাকাটা অত্যান্ত জরুরি।

ছাগলের খামার তৈরি ছাগলের খামার করে কোটিপতি ছাগলের খামার কিভাবে করতে হয় ছাগল খামার পরিকল্পনা ছাগল খামার প্রশিক্ষণ ছাগলের খামার বাংলাদেশ লাভজনক ছাগলের খামার ছাগলের খামার করে সফলতা

১) পরিকল্পিত বিনিয়োগঃ

ছাগলের খামার ভালো অবস্থানে যেতে কমপক্ষে ৩ বছর লাগে। শুরুতেই যদি  বড় একটা অর্থ বিনিয়োগ করে বসেন তাহলে সামনের দিন গুলা আপনাকে ফার্ম অর্থাভাবে মুখ থুবড়ে পরবে। এছাড়াও আরো কিছু ব্যাপার আছে যে গুলা ফার্ম শুরু করার পরে আস্তে আস্তে সামনে আসবে।

 

২) সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ

সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা না থাকলে শুধুমাত্র ডাক্তারের উপর নির্ভর করে ফার্ম শুরু করাটা খুব বড় একটা বোকামি তাই সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা খুব জরুরি।

 

৩) নিজের এলাকার সহজলভ্য খাদ্য উপকরণঃ

খামারের লাভ নির্ভর করে খামার খরচের উপর তাই নিজের এলাকার সহজলভ্য পুষ্টি ও মানসম্মত খাবারের উপর নজর দিতে হবে।  খাদ্য খরচ বেশি এবং সহজলভ্য না হলে খামার টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।

 

৪) নিজের এলাকার বাজার মূল্য যাচাই করাঃ

আপনার উৎপাদিত ছাগল কোথায় বিক্রি করবেন…? আমি যত গুলা নতুন খামারির কাছে এটি জানতে চেয়েছি প্রায় সবাই সদুত্তর দিতে পারেনি। আপনার নিকট বাজার অথবা আপনার এলাকার চাহিদা আর বাজার মুল্য মাথাই রেখে ফার্মিং শুরু করুন আর আপনার প্রধান ক্রেতা আপনার এলাকার কসাই সেই হিসাব মাথাই রেখেই ছাগল উৎপাদন করুন তাহলেই আপনি এই সেক্টরে ইতিবাচক কিছু করতে পারবেন।

 

৫) সময় মত টিকা বা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করাঃ

বাণিজ্যিকভাবে ছাগল পালনে সঠিক সময়ে ভ্যাক্সিনেশন করাটা খুব জরুরি। শুধু মাত্র সুস্থ সবল ছাগল থেকে ভালো প্রডাকশন পাওয়া সম্ভব তাই নিয়ম মেনে ভ্যাকসিন দিতে হবে।

 

৭) পরিকল্পিত সেড নির্মাণ আবহাওয়ারঃ

সাথে মানানসইঃ আমাদের দেশের আবহাওয়া ২)৩ মাস পর পর চেঞ্জ হয় যেমন শিত, বর্ষা, ঝড়, গরম সব রকম আবহাওয়া একটা বছরে পার করতে হয় তাই সেড করার আগে সব দিক মাথাই রেখেই সেড করা উচিৎ।

 

৮) ছাগল এর চলাচল এর জন্য পর্যাপ্ত যায়গা রাখাঃ

উন্নত খাদ্য, উন্নত বাসস্থান, উন্নত চিকিৎসা দিয়েও আপনি ছাগলকে সব সময় সুস্থ বা ছাগল থেকে ভালো প্রডাকশন নাও পেতে পারেন। ছাগলের  স্বভাবসুলভ চড়ে বেড়ানর জায়গা দিন তাহলে আপনার ছাগল সুস্থ থাকবে, চিকিৎসা খরচ কমে যাবে পাশাপাশি উৎপাদন ও বেড়ে যাবে।

 

৯) নিজে জাত উন্নয়ন করে নেওয়াঃ

ভালো প্রডাক্টিভ ছাগল আপনি হাট বাজার ঘুরে ২)৪ টা ম্যানেজ করতে পারলেও বাণিজ্যিক ফার্মিং এর জন্যে প্রয়োজন মত মান সম্মত ছাগল পাবেন না তাই ফার্মিং এ সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নিজে থেকে ছাগলের জাত উন্নয়ন করে ভালো মানের প্রডাক্টিভ ছাগল নিজেই তৈরি করে নিন।

 

১০) বিকল্প আয়ের উৎস থাকাঃ

একটা বানিজ্যিক খামার নিজে পায়ে দাড়াতেই কমপক্ষে ৩ বছর লেগে যায় তাই এই ৩ বছর নিজের খরচ, ফার্মের খরচ, সংসার খরচ সহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা মোকাবেলা করার জন্যে হলেও বিকল্প আয় থাকা অত্যান্ত জরুরি।

 

সব থেকে যেটা বেশি প্রয়োজন সেটা হলো অভিজ্ঞতা আর অভিজ্ঞতা কখনোই এক দিন এক সপ্তাহ বা এক মাসে আসেনা। অনেক ধৈর্য  অনেক সাধনা অনেক পরিশ্রম  সব থেকে বেশি লাগে সময়, দির্ঘ্য সময় ইনভেস্ট করেই আপনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন সেটাই প্রয়োজন।

সেজন্যে হুট করে বানিজ্যিক ফার্মিং শুরু না করে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই বছর নিজের হাতে ৫/৬ টা ছাগল পেলে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুন আর ধৈর্য নিয়ে এগিয়ে যান।

এই পোষ্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে স্টার এ ক্লিক করুন!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

(চাইলে পোষ্টটি শেয়ার করতে পারেন)

1 thought on “ছাগলের খামার কিভাবে করতে হয়? ছাগলের খামার করে সফল হবার মন্ত্র”

  1. অনেক মুল্যবান, সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত এবং উচিৎ কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.