Skip to content

ছাগল ফার্ম এর জন্য কি কি ঘাস ও গাছ লাগাবেন?

খামারিয়ান লাইভস্টক ফার্ম

খামারিয়ান গরু ও ছাগলের ফার্ম এর ওয়েবসাইট ও চ্যানেলের শ্রদ্ধেয় দর্শক সকলকে আমার সালাম জানিয়ে শুরু করছি আজকের এই পোস্ট।

বিষয়


আজকে আমরা আলোচনা করবঃ

গোটারি ফার্ম শুরু করতে হলে আমাদের যে কাজটি করে রাখতে হবে?

কি ধরনের গাছ আমরা রাখবো?

কোন ধরনের  ঘাস আমরা লাগাবো?

 

নেপিয়ার সিওসিএনফোর ঘাস

গোটারি ফার্ম করার জন্য সর্ব প্রথমে আছে নেপিয়ার COCN4। মনে রাখবেন প্রায় 5 টি প্রজাতির নেপিয়ার ঘাস পাওয়া যায় তো তাদের মধ্যে চারটি প্রজাতি হচ্ছে গরুদের জন্য শ্রেষ্ঠ কিন্তু ছাগলের জন্য যে আমরা নেপিয়ার ঘাস চাষ করব সেটা হচ্ছে নেপিয়ার সিওসিএনফোর, বাকি যেসব জাত সুপার নেপিনার বা হাইব্রিড নেপিয়ার, CO1, CO2 যা ছাগল খেতে চায় না।

ছাগল যেটা খায় সেটা হচ্ছে নেপিয়ার COCN4, এর গায়ের রং লাল কালারের হয়ে থাকে এবং এর ফলন সারা বৎসর হয়। এর পাতায় ধার কম থাকে এবং এই নেপিয়ার ঘাস চাষ পদ্ধতি খুরই সহজ। আমরা গোটারি ফার্ম করার আগে ঘাস বসিয়ে রাখব, রেডি করে রাখবো, যাতে করে গোট ফার্মিং শুরু করার পর আমাদের সেই সব সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।

 

 

প্যারা ঘাস

এপর যে গাছটি জলে চাষ হয় বা নিচু জমিতে চাষ করা সম্ভব, যেটা জলে নষ্ট হয়না এর নাম হচ্ছে প্যারা ঘাস। তো এই ঘাসটি খুবই  সরু হয় এবং এর পাতায় কিন্তু কোনো রকম ধার থাকেনা। এই গাছটিরও ফলন খুবই ভালো হয়, যদি আমরা ঠিকঠাক ভাবে সুন্দর করে বসিয়ে তার পরিচর্যা করি,  তাদের সময়মতো জলসার দিয়ে থাকি, তো এর থেকেও আমরা খুব ভালো ফলন পেতে পারি। ঘাসটি সরু হওয়াতে ছাগলে খুব পছন্দ করে, বর্ষাকালে এই গাছটির ফল যেমন, তেমন কিন্তু শীতকালেও, যদি আমরা ঠিকঠাক একে জলসেচ এবং সার দেই, এর ফলন আমরা প্রচুর পরিমাণে পাবো। এই গাছেরও চাষ পদ্ধতি খুবই সোজা। শুধু কান্ড বা গুড়ি  যেটা সেটা উঠিয়ে আমরা যদি বসিয়ে দিই তো সেখান থেকেই এর গাছ তৈরি হয়।

 

 

ব্লাকবেরি গাছ

এরপর হচ্ছে আরেকটি গাছ সম্বন্ধে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি যেটির নাম হচ্ছে ব্লাকবেরি, খুবই সুন্দর একটি গাছ। আমাদের দেশে তেমন একটা এভেলেবেল নেই কিছু-কিছু রিসার্চ সেন্টার এই গাছটি পাওয়া যায় বা দেখা যায় যাই হোক এটি খুবই সুন্দর ঘাস। খুব সফট ছাগল খেতে খুব পছন্দ করে এর পাতায় কোন রকম ধার থাকে না। এই গাছটি যদি ম্যাচুরিটি হয়ে যায় অনেক বড় হয়ে যায় তবু কিন্তু এটা ছাগল খায়। কেননা এই পাতাটি নরম থাকার দরুন বা পাতায় কোন রকম ধার থাকে না বলি ছাগল খেতে পছন্দ করে। এই ঘাস চাষ করা খুব সহজ পদ্ধতি কিন্তু এই গাছটিকে উঁচু জায়গায় লাগাতে হবে যেখানে জল দাঁড়াতে না পারে। ঠিকঠাক যদি এর পরিচর্যা করি আমরা মাসে দুবার এই ঘাসটিকে কাটতে পারি, খুব সুন্দর হয় এবং কলাগাছের মত অনেক চারা হয়। চারাগুলো আমরা ভেঙে ভেঙে যদি বসাই তো প্রায় দুই মাসের মধ্যে খুব সুন্দর ঘাসে পরিণত হয়। বন্ধুরা মনে রাখবেন ফার্মিং করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের ঘাস গাছ লাগিয়ে রাখতে হবে যাতে করে সব ধরনের নিউট্রিশিয়ান আমরা এই ঘাস এবং এই গাছগুলির মত থেকে পাই। কেননা এক প্রকারের ঘাস খাযইয়ে কিন্তু ছাগলকে চাষ কখনো করা যাবে না, এজন্য যাবে না একটা ঘাসের মধ্যে সব রকম গুণ উপলব্ধ থাকে। না যার জন্য আমাদের বিভিন্ন প্রকারের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে। বন্ধুরা সব সময় মনে রাখবেন যে গাছ লাগাবেন তো সেটা যেন পরিচর্যা ঠিকঠাক হয় তার যেন সঠিক ভাবে আমরা সার প্রয়োগ করি তারমধ্যে বেশি আগাছাগুলো সাফ সাফাই করে দেই।

 

 

গ্লিরিসিডিয়া গাছ

এরপর যে গাছটি সেটি নাম হচ্ছে গ্লিরিসিডিয়া। খুবই উত্তম একটি গাছ এবং গোটারি ফার্ম ও যেকোনো ফার্মিং এর জন্য খুবই উপযুক্ত একটি গাছ যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি টুয়েলভ, ভিটামিন এ বিভিন্ন ধরনের নিউট্রিশন পাওয়া যায়। আমাদের দেশে খুব কম দেখা যায় এবং ভারতবর্ষের মধ্যে সাউথ ইন্ডিয়ার মধ্যে কিন্তু এই গাছ গাছটির এখন চাষ হচ্ছে। কেননা এর গুন সম্পর্কে মানুষ ভালভাবে জানে বলে এটা চাষ প্রচুর পরিমাণে করা হচ্ছে। তাদেরকে বলছি যারা গোট ফার্মিং করতেছেন তো খেয়াল রাখবেন এই গাছটি অবশ্যই চাষ করবেন। এর মান খুবই ভালো এবং খুব সহজ পদ্ধতিতে চাষ করা সম্ভব। এই গাছের বীজ  যদি আমরা বসিয়ে রাখি তো পাঁচ দিনের মধ্যে অঙ্কুরোদগম হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি গাছটি বেড়ে ওঠে। এর ফলন খুব ভালোই দেয় আমরা ফার্মের চারধারে জমিতে আমরা খাস লাগাবো বা এই গাছটিকে লাগাতে পারি। মনে রাখবেন আমরা কিন্তু এর ডাল থেকেও গাছ তৈরি করতে পারব।

 

 

মলাবারি/তুত গাছ

এরপরে হচ্ছে মলাবারি বাংলায় তাকে তুত গাছ বলা হয়। সাধারণত আমরা জানি তুত গাছ চাষ হয় রেশম পোকা খাওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা এটা জানি না যে তার মধ্যে কত কি গুন আছে? তার মধ্যে কি কি জিনিস গুলি বা কী কী নিয়ামক গুলি উপলব্ধ থাকে। মনে রাখবেন এর পাতার মধ্যে কিন্তু ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যার জন্য এটাও আমরা ফার্মিং এর জন্য লাগাতে পারি বা লাগিয়ে রাখব। এটাও খুব সহজ পদ্ধতিতে আমরা চাষ করতে পারি। ফার্মের চারধারে যে জমিতে আমরা খাস লাগাই, সেই জমির লাগাতে পারি। চাষ পদ্ধতি হচ্ছে বর্ষাকালের এর ডালকে যদি কেটে বসিয়ে দিই তাহলে চারা তৈরি হয়। এই গাছটা একবার লাগালে কুড়ি বছর ফল পাওয়া যায়।

 

 

হেজ লুসার্ন গাছ

এর পরে খুবই একটি হাই প্রোটিন যুক্ত ঘাস, যার মধ্যে 34 শতাংশ প্রোটিন থাকে, যে গাছটির নাম হচ্ছে হেজ লুসার্ন।  খুবই হাই প্রোটিন যুক্ত গাছ যেটা সাধারণত ফার্মে বেশিরভাগ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তো এর বীজ খুবই ছোট হয় এবং এই ছোট গাছের মধ্যে প্রচুর বীজ হয়। এই গাছটা যদি আমরা একবার লাগিয়ে রাখি দ্বিতীয় বার আর লাগাতে হবে না। এজন্যই যে প্রচুর বিজি থাকার কারণে বীজ যেখানে সেখানে পড়ে কিন্তু নতুন গাছের সৃষ্টি হয় এবং এর পাতা খুবই সহজ এবং খুবই সুন্দর খুব সহজেই এটি ছাগল হজম করতে পারে বা খেতে খুব পছন্দ করে। এটা আমরা জমির চারধারে লাগাতে পারি এবং এটা কি আমরা সেরকমভাবে জমিতে চাষ করতে পারি। একবার যদি আমরা লাগায় দুই বৎসর এর থেকে আমরা ফলন পাব। তবে মনে রাখবে এই গাছটি যখন আমরা লাগাবো তো এর জন্য আগাছা মানে গাছের গোড়ায় যেন কোন রকম আগাছা না থাকে। সব সময় পরিষ্কার রাখবে সময়মতো জলসেচ দেবে এবং এর গোড়া থেকেই কেটে নিতে হবে গোড়া থেকে কেটে নিলে আরো বেশি পাওয়া যাবে।

 

 

ধন্যবাদ!

যাইহোক বন্ধুরা আজকে এতটুকুই যদি ভালো লেগে থাকে কমেন্ট ও আমাদের Youtube চ্যানেলটি Subscribe করুন। ভালো থাকবেন।

এই পোষ্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে স্টার এ ক্লিক করুন!

Average rating 1.5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

(চাইলে পোষ্টটি শেয়ার করতে পারেন)

Leave a Reply

Your email address will not be published.