Skip to content

 

Wait...❤😘 Show love? ⬇⬇⬇

উন্নতমানের ছাগলের খামারে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ছাগল পালন পদ্ধতি ও পরিচর্যাঃ-ছাগল পালন চৌকি বা মাঁচার মাপ, খামার ব্যবস্থায় ছাগল পরিচর্যা, খাদ্য প্রদানের দৈনিক রুটিন, গর্ভবতী ছাগীর পরিচর্যা, ছাগীর খাদ্য, বাচ্চার পরিচর্যা, বাচ্চার খাসীকরণ, পাঠার পরিচর্যা, ছাগল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ছাগলের বয়স নির্ণয়।

উন্নতমানের ছাগলের খামারে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ছাগল পালন পদ্ধতি ও পরিচর্যাঃ-ছাগল পালন চৌকি বা মাঁচার মাপ, খামার ব্যবস্থায় ছাগল পরিচর্যা, খাদ্য প্রদানের দৈনিক রুটিন, গর্ভবতী ছাগীর পরিচর্যা, ছাগীর খাদ্য, বাচ্চার পরিচর্যা, বাচ্চার খাসীকরণ, পাঠার পরিচর্যা, ছাগল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ছাগলের বয়স নির্ণয়।

ভূমিকাঃ

▪ আমাদের দেশের ভিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়, যাদের আর্থিক সামর্থ আছে তারা ছাগলের জন্য আলাদা ঘর তৈরি করেন। এ সমস্ত ঘরের নির্দিষ্ট কোনো আকার বা মাপ নেই।

▪ একটা ঘরের মধ্যে পাঠা-পাঠী, খাসী, বাচ্চা মা একই সাথে থাকে। এখানে প্রতিটি ছাগলের জন্য নির্দিষ্ট মেঝের পরিমাণ হিসেব করা হয় না।

▪ ঘরের মধ্যে আলো চলাচলের জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা থাকে না। ঘরের মেঝে কাঁচা বা পাকা দু ভাবেই হয়ে থাকে। এ সমস্ত ঘরে শুধু রাতের বেলা ছাগল রাখা হয়।

▪ দিনের বেলা ঘাস, পাতা খাবার জন্য কোনো ফাঁকা মাঠে; জমির আলের পাড়ে অথবা রাস্তার ধারে চরতে দেখা যায় অথবা বেঁধে রাখা হয়।

▪ পরিকল্পিত এবং পারিবারিকভাবে ছাগল পালন ব্যবস্থাপনা একটু উন্নত করতে পারলে যেমন অল্প খরচে ছাগল পালা যায় তেমনি ছাগলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং তার উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়ে। ভেজা বা স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে ছাগল থাকতে পছন্দ করে না।

▪ তাই ছাগল রাখার স্থান অবশ্যই ভালো ও শুকনো হওয়া উচিৎ। মেঝেতে কিছু খড় বিছিয়ে দিয়ে তাদের জন্য যেমন আরামদায়ক হয় তেমনি ঠাণ্ডা লেগে বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও কমে যায়।

▪ ছাগল আবার খড়ের বিছানার মধ্যে পায়খানা-পেশাব করে নোংরা করে ফেলে এবং ভীষণ দুর্গন্ধ হয়। দিনের বেলা এ খড় রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করা যায়।

▪ এ ব্যবস্থা আর একটু উন্নত করতে হলে ঘরের একদিকে কাঠের বা বাঁশের চৌকি মাঁচা তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে। ছাগল উঁচু স্থানে থাকতে বেশি পছন্দ করে।

ছাগল পালন চৌকি বা মাঁচার মাপঃ

▪ মেঝের ৯ হতে ১ ফুট উঁচুতে লম্বায় ৪ ফুট ও প্রস্থে ২ ফুট মাপের চৌকি অথবা মাঁচা একটি ছাগলের আরামে থাকার জন্য উপযুক্ত। দেশি ছাগল অবশ্য এ স্থানে ২টি থাকতে পারে।

▪ ঘরের মেঝেতে মাঁচা তৈরি করে দিলে বিছানা নষ্ট হয় না এবং প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করতে সুবিধে হয়। মাঁচার ওপর অল্প কিছু খড় ব্যবহার করে বিছানা করা যায় এবং মলমূত্রে নষ্ট হবার সম্ভাবনা কম থাকার ফল অনেক দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।

▪ ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো- বাতাস চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ঘরে প্রচুর আলো-বাতাস চলাচল করতে পারলে ঘর সহজে শুকিয়ে যায়, ঘরের মধ্যে উৎপন্ন দূষিত গ্যাস ও বাতাস বের হতে পারে ফলে ছাগলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

খামার ব্যবস্থায় ছাগল পরিচর্যাঃ

▪ বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যার কারণে ছাগল পালা আর সম্ভব নয়। পারিবারিকভাবেই হোক অথবা খামার ব্যবস্থাপনায় হোক বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ছাগর পালার উপায় খুঁজতে হবে।

▪ ছেড়ে ছাগল পালা এক সামাজিক সমস্যা। ফলে অনেকে ছাগল পালার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং ছাগল পালাকে ঘৃণার চোখে দেখে থাকে।

▪ সাধারণত রাতের বেলা ছাগল ঘরে থাকে। দিনের বেলা রাখার জন্য উঠানে বা ঘরের বাইরে খোয়াড় তৈরি করে দেওয়া হয়। ঘরে বা খোয়াড়ের মধ্যে ছাগল স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে। তাদের কখনো গলায় দড়ি বেঁধে রাখা উচিৎ নয়। অনেক সময় দড়িতে ফাঁস লাগতে পারে।

▪ খোয়াড় এমন স্থানে তৈরি করতে হয় যেখানে পর্যাপ্ত ভোরের সূর্যকিরণ পেতে পারে। কিন্তু দুপুরের দিকে ছায়া পড়ে।

▪ খুব সকালে ছাগল ঘর থেকে বের করে খোয়াড়ে ঢুকাতে হয়। এ সময়ের মধ্যে ঘর পরিষ্কার করে ফেলতে হয়। খোয়াড়ের মধ্যে তার শরীর চর্চার জন্য পর্যাপ্ত স্থান এবং সকালের সূর্যকিরণ পায়।

▪ ঘর পরিষ্কার করার পর খাবার পাত্র ও পানির পাত্র পূর্ণ করে দিতে হবে। দুপুরের প্রচণ্ড রোদ থাকলে খোয়াড়ের ওপর কিছু খেজুর বা নারকেলের পাতা দ্বারা ছায়ার ব্যবস্থা করা যায়।

See also  ছাগলের পেটের রোগ সমূহ? ছাগলের পেটে বিষক্রিয়া, মিক্ক ফিভার ও হাইপো ম্যাগনেসেমিয়া রোগ

▪ যদি ভালো দুধ উৎপাদন ও মাংস তৈরি করা প্রধান উদ্দেশ্য হয়, তবে ছাগলের চলাচল ও আচার ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে পরিপূর্ণ অভিজ্ঞ হতে হবে।

▪ ছাগল যেহেতু ওপরের সচল ঠোঁট ও পরিগ্রাহী জিহ্বার সাহায্যে খাদ্য ছিঁড়ে খেতে পছন্দ করে তাই খোয়াড়ের মধ্যে পাতাসহ ডাল ঝুলিয়ে দেওয়া যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ডালের পাতা মাটিতে পড়ে নোংরা না হয়।

▪ ছাগল তার নিজের দ্বারা হোক বা অপরের দ্বারা হোক, পায়ে পাড়ানো নোংরা খাবার খায় না। ছাগল খোয়াড়ের বেড়ায় পা দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পাতা ছিঁড়ে খায়।

▪ দানাদার খাদ্য কখনো একত্রে একাধিক ছাগলকে দেওয়া উচিৎ নয়। দানাদার খাদ্য প্রত্যেক ছাগলের জন্য আলাদা পাত্রে দিতে হবে কিন্তু খাবার সময় যেন কোনোক্রমে একত্রিত না হতে পারে তার ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

▪ পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে যে, ছাগলের ক্ষুধা স্থৈর্যশীল। দানাদার মিশ্রণ খাদ্য দেখলে পেটের ক্ষুধা আরো বেড়ে যায় এবং যতক্ষণ সামনে খাদ্য থাকে ততক্ষণ তারা খেতেই থাকে। তাদের খাদ্য একসাথে না দিয়ে নিচের রুটিন মতো দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

খাদ্য প্রদানের দৈনিক রুটিনঃ

১. সকাল ৬টা

দৈনিক বরাদ্দের অর্ধেক দানাদার খাদ্য একটি বালতিতে বা পাত্রে শুষ্ক অবস্থায় দিতে হবে। অপরপাত্রে বা ঝুড়িতে নির্ধারিত পরিমাণের এক তৃতীয়াংশ ছোবড়া জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। ছাগী দুগ্ধবতী হলে এ সময় দুধ দেয়াতে হয়। এ সময় বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাবার দেওয়া যায়। একটি খোয়াড়ে একাধিক ছাগল থাকলে প্রথমে দানাদার খাদ্য আলাদাভাবে দিতে হবে। পরে ছোবড়া জাতীয় খাদ্য একত্রে দেওয়া যায়।

২. সকাল ১০টা

দুগ্ধবতী ছাগী হলে বালতি ভরে গরম পানি এবং অন্যান্য ছাগলের জন্য ঠাণ্ডা পানি দিতে হবে। পাতাসহ গাছের ডাল ঝুলিয়ে দেওয়া যায়।

৩. দুপুর ১২টা

ঝুঁড়িতে বা বিশেষ পাত্রে নির্ধারিত পরিমাণের এক-তৃতীয়াংশ অংশ ছোবড়া জাতীয় খাদ্য, ঘাস, লতা-পাতা, কাটাগুল্ম শুটি জাতীয় গাছ খাদ্যযোগ্য বিভিন্ন প্রকারের আগাছা, গাছের শিকড়, গাছের ছাল ইত্যাদি দিতে হবে।

৪. বিকেল ৫টা

অবশিষ্ট দানাদার খাদ্য দিতে হবে। দুগ্ধবতী ছাগী হলে দুধ দোয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাত্রে পানি না থাকলে পানি দিতে হবে।

▪ উল্লিখিত রুটিন মতে ছাগলের সারাদিনের খাদ্যকে ৫ ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। অতিরিক্তভাবে ডাল-পাতা দেওয়া যেতে পারে অথবা অন্যান্য ছোবড়া জাতীয় খাদ্যের সাথে শুটি ও ডাল-পাতা খাদ্য মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

▪ ছাগল ধরে পাললে বছরে দুএকবার কৃমি নাশক ওষুধ এবং মাঠে চরানোর ব্যবস্থা থাকলে বছরে ৩ বার কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করাতে হয়। তাছাড়া প্রতিদিন সকালে নিয়মিত রসুন খাওয়ালে কৃমি ছাড়াও বিভিন্ন রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

▪ এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় যে, ছাগলের ঘরে বা খোয়াড়ের মধ্যে একটা আলাদা পাত্রে লবণের দলা রাখতে হয়। পাত্রটি এমনভাবে রাখতে হবে যেন কখনো উল্টে পড়ে নোংরা হতে না পারে। ছাগল তার প্রয়োজন অনুসারে উক্ত পাত্র হতে লবণ খেতে পারবে।

▪ ছাগল বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাদ্য, রুটি, ভাত, তরকারি বিভিন্ন ফলের ছোবড়া, আম, কাঁঠাল, তরমুজ, আনারস, কলা ইত্যাদির ছোবড়া ছাড়াও আম, জাম, গামারি, লিচু ইত্যাদি ফলের বীচি অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে খায়।

গর্ভবতী ছাগীর পরিচর্যাঃ

▪ ছাগী গর্ভবতী হওয়ার ১৪৫ দিন (৫ মাস) পূর্ণ হওয়ার ২-১ দিন আগে-পিছে বাচ্চা প্রসবের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। বাচ্চা প্রসব করার অন্তত এক সপ্তাহ পূর্ব হতে তাকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

▪ খামারের গর্ভবতী ছাগীর প্রসব করার জন্য আলাদা প্রসূতি ঘর থাকে। গর্ববতী অবস্থায় তাকে উঁচু মাচার ওপর উঠতে দেওয়া উচিৎ নয়। সকালে বাইরে আলাদা খোয়াড়ে অথবা গাছের নিচে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা নিতে হয়।

▪ প্রসব করার পূর্বে ছাগীর ওলান দুধে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় ওলান খুব বেশি শক্ত হয়ে ওঠে। তখন দুধ ফেলে দেওয়া ভালো। কারণ, এ সময় পালানে প্রদাহ হতে পারে। ছাগী বাচ্চা দেবার সময় অত্যন্ত চঞ্চল হয়ে পড়ে। মাঝে-মাঝে নিচু গলায় ডাকে। পেটের বা পাশে গর্তস্থানে গর্ত আরো বড় দেখায়। লেজের গোড়ার দু পাশে দুটো গর্ত দেখা যায়। মেঝেতে বার বার পা ঠুকতে থাকে। বার বার শোয় এবং ওঠে-বসে। যোনিদ্বার দিয়ে হলদে তরল পদার্থ বের হতে থাকে।

See also  ছাগলের ppr রোগ ছাগলের ppr রোগের চিকিৎসা

▪ অন্যান্য রোমন্থনকারী প্রাণীর মতো বাচ্চার সামনের দু পা ও তার মধ্যে মাথা বেরিয়ে আসে। অনেক সময় পেছনের পা দুটোও আগে বেরিয়ে আসতে পারে।

▪ যদি সহজে বাচ্চা বের না হয় তবে বুঝতে হবে গর্ভের মধ্যে বাচ্চার অবস্থান স্বাভাবিক নেই। এ সময়ে অভিজ্ঞ ডাক্তার বা প্রসূতিবিদের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

▪ ছাগী অনেক সময় একাধিক বাচ্চা প্রসব করে। তাই প্রথম বাচ্চা প্রসবের ১৫ হতে ২০ মিনিট পর সাধারণত দ্বিতীয় এবং একই সময় অন্তর পরবর্তী বাচ্চা প্রসব করে। তাই প্রথম বাচ্চা প্রসবের পর তেমন ব্যস্ততার প্রয়োজন হয় না।

▪ প্রসবের পর ছাগী তার বাচ্চার শরীর জিহ্বার দ্বারা পরিষ্কার করে দেয়। যদি পরিষ্কার না করে তবে বাচ্চার শরীরে একটু লবণ ছড়িয়ে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। একেবারেই যদি না চাটে, তবে পরিষ্কার তোয়ালে অথবা ন্যাকড়া দিয়ে বাচ্চার সারাদেহ মুছে দিতে হয় এবং কাজগুলো খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে হয়।

▪ গর্ভের মধ্যে গর্ভের ফুলের সাথে বাচ্চার নাভীর সংযোগ নালী ধারালো ও জীবাণুমুক্ত অস্ত্রের সাহায্যে কাটতে হয়।

▪ কাটার পূর্বে কাটার স্থানের উভয় পাশে জীবাণুমুক্ত সুতোর সাহায্যে বাঁধতে হয়। বাঁধা না হলে রক্তক্ষরণ হয়ে বাচ্চার মৃত্যুও ঘটতে পারে।

▪ নালী কাটার পর কাটা স্থান সাল্‌ফা নিলামাইড পাউডার অথবা টিংচার আয়োডিন দ্বারা ঢেকে দিতে হয়।

ছাগীর খাদ্যঃ

▪ বাচ্চা প্রসবের ২-৩ সপ্তাহ পূর্ব হতে ছাগীকে পূর্ণ উৎপাদনশীল ছাগীর সমপরিমাণ খাদ্য অর্থাৎ ১০০ পাউন্ড ওজনের ছাগীর জন্য অতিরিক্ত ২ পাউন্ড দানাদার খাদ্য দিতে হয়।

▪ কিন্তু বাচ্চা প্রসবের পর ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো দানাদার খাদ্য দিতে হয় না। এ সময়ে কচি শুটি জাতীয় ঘাস, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি বেশি পরিমাণে দিলে শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায় ফলে প্রসবের ধকল সামলে উঠতে সহজ হয়।

▪ এরপর দুধের উৎপাদন যত বাড়তে থাকবে ছোবড়া জাতীয় খাদ্যের সাথে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে। গর্ভাবস্থায় ছাগীকে দানাদার খাদ্য ভিজিয়ে দেওয়া ভালো।

বাচ্চার পরিচর্যাঃ

▪ একটি ছাগী একসাথে একাধিক এবং সর্বোচ্চ ৬টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে থাকে। বাংলাদেশের কালো জাতের ছাগলের এই গুণটা খুব বেশি।

▪ দেশি ছাগলের দুধ উৎপাদন ক্ষমতা খুব কম। উপরন্ত একসাথে দুটোর বেশি বাচ্চা গ্রহণ করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুধের ঘাটতি পড়ে।

▪ বাচ্চার বয়স ১ সপ্তাহ হলে মায়ের সাথে ২-১টা ঘাস ছিঁড়ে খেতে চেষ্টা করে। মায়ের খাদ্য সুষম হলে বাচ্চার জন্য দুধের ঘাটতি পড়ার কথা নয়।

▪ একটা স্ত্রী বাচ্চা দৈনিক ২২৫ গ্রাম হারে ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাচ্চার বয়স ২ মাস (৮ সপ্তাহ) হওয়া পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ২ লিটার দুধ পান করে।

▪ বাচ্চার বয়স ৩-৪ সপ্তাহ পূর্ণ হলে তাকে দানাদার খাদ্য দেওয়া যায়। এ সময় থেকে দানাদার খাদ্য অভ্যাস করালে দুধের পরিমাণ অর্ধেকের চেয়ে কম প্রয়োজন।

▪ পুরুষ বাচ্চা তুলনামূলকভাবে স্ত্রী বাচ্চার চেয়ে আরো দ্রুত বাড়ে এবং ৩ মাস বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হয়। এ সময়ে তাকে খাসী করে দিলে শারীরিক বৃদ্ধি আরো দ্রুত হয়। জন্মের পর তাড়াতাড়ি খাসী করা হলে শারীরিক বৃদ্ধি ও ওজন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। কারণ, এ সময়ে তারা যে দুধ পান করে তা মাংসে আরো ভালো এবং দ্রুত পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

▪ জন্মের পর ছাগলের বাচ্চার দুধ হজম হবার জন্য কেবল পাকস্থলীর চতুর্থ প্রকোষ্ঠ থাকে। পাকস্থলীর অন্যান্য প্রকৌষ্ঠগুলো পর্যায়ক্রমে পূর্ণতা লাভ করতে থাকে। যখন তার বয়স ১ সপ্তাহ পূর্ণ হয় তখন থেকে একটা-দুটো কচি ঘাস ছিঁড়ে খেতে চেষ্টা করে।

See also  ছাগলের ঘর নির্মাণ কিভাবে করবেন? chagol palon khamar

▪ বাচ্চার ২ সপ্তাহ বয়স হলে মোটামুটিভাবে তারা ঘাস, লতাপাতা এবং দানাদার খাদ্য খেতে পারে। এ সময়ে পাকস্থলীর ১ম প্রকোষ্ঠ গঠন হতে শুরু করে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত পাকস্থলীর ৭৫ বাগ বা দুই- তৃতীয়াংশ অধিকার করে ততক্ষণ পর্যন্ত বড় হতে থাকে।

▪ জন্মের সময় একমাত্র পাকস্থলী হিসেবে চতুর্থ প্রকোষ্ঠ উদরের ৮০ ভাগ জুড়ে থাকে কিন্তু ২ হতে আড়াই মাসের মধ্যে মাত্র উদরের ২০ ভাগ অধিকার করে থাকে। ৩ মাস বয়সে বাচ্চার পাকস্থলীর সমুদয় প্রকোষ্ঠ পূর্ণতা লাভ করে।

বাচ্চার খাসীকরণঃ

▪ পুরুষ বাচ্চার যৌবন প্রাপ্তির পর তার শরীরে এক প্রকার বোটকা গন্ধ হয়। জন্মের পর বাচ্চাকে নির্বীর্য করলে আর এ গন্ধ থাকে না এবং তার শারীরিক বৃদ্ধি আরো দ্রুত হয়।

▪ আমাদের দেশে সাধারণত ২ হতে ৩ মাস বয়সে বাচ্চার অণ্ডকোষ হতে শুক্রাশয় অপসারণ করে ফেলে দেওয়া হয়। এই প্রথা বাচ্চার জন্য কষ্টদায়ক।

▪ অনেক সময় কাটা স্থান জীবাণু দ্বারা দূষিত হয়ে সেপ্‌টিক ও টিটেনাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত গ্রামের কিছু সাধারন লোক পেশাভিত্তিক এ কাজ করে থাকে।

পাঠার পরিচর্যাঃ

▪ এ কথা নিঃসন্দেহে সত্য যে, যে-কোনো গৃহপালিত পশু-পাখির বেলায় পাঠা হচ্ছে সমস্ত পালের অর্ধেক। কারণ, পুরুষের দোষগুণ ও তার পূর্বপুরুষের উৎপাদন ক্ষমতা ইত্যাদি তার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ বংশধরদের মধ্যে সম্প্রসারিত হয় বেশি।

▪ কোনো পাঠার শারীরিক দুর্বলতা, পঙ্গুত্ব বা কোনো যৌন অসুখ সমস্ত পালকে নষ্ট করে দিতে পারে।

▪ একটা পাঠার যৌন ক্ষুধা এতো বেশি যে ১০০ হতে ১৫০টা পর্যন্ত ছাগীকে বছরে পাল দেওয়া যায়, তবে সাধারণত ৫০ হতে ১০০ ছাগীর জন্য একটা পাঠা রাখা উচিৎ।

▪ পারিবারিকভাবে ছাগল পালার জন্য গ্রামে একটা পাঠা থাকলে মোটামুটি চাহিদা মেটানো সম্ভব।

▪ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে ৩ মাস বয়সে পাঠা যৌবনপ্রাপ্ত হয় কিন্তু ৬ মাস বয়সের পূর্বে পাল দেবার জন্য ব্যবহার করা উচিৎ নয়। সাধারণত ২-৩ বছর বয়সে তারা বেশি কর্মক্ষম থাকে।

ছাগল নিয়ন্ত্রণে রাখাঃ

▪ ছাগল নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যাধিক সমস্যাপূর্ণ। অনেক সময় ছাগল যাকে পছন্দ করে না তাকে শিং দ্বারা গুতো মারে।

▪ যে আদর করে তার প্রতি অত্যাধিক বাধ্য থাকে এবং ডাকলে বা খাবার দিলে কাছে আসে। শিং বা কান ধরলে তারা অত্যাধিক বিরক্ত বোধ করে এবং একেবারেই পছন্দ করে না।

▪ ছাগল ধরতে হলে ছাগলের গলা অথবা ঘাড় ধরা সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ।

ছাগলের বয়স নির্ণয়ঃ

▪ বাচ্চার বয়স ২ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত দুধদাঁত পরিবর্তন হয় না।

▪ ২ বছর পূর্ণ হলে সামনের দুটো দাঁত পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে।

▪ তৃতীয় বছর সামনের ৪টি দাঁত পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে।

▪ ৪র্থ বছরে দু পাশে অতিরিক্ত দুটো দাঁত পরিপূর্ণ হয়।

▪ ছাগলের বয়স ৫ বছর পূর্ণ হলে মুখের সমস্ত দাঁত পরিপূর্ণ হয়। এ সময় তাকে ‘ফুল মাউথ’ (Full Mouth) বা সম্পূর্ণ দাঁতের ছাগল বলা’ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!