Skip to content

ভুট্টা সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি? সাইলেজ খাওয়ানোর নিয়ম? কেন ভুট্টা সাইলেজ খাওয়াবেন?

ভুট্টা সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি? সাইলেজ খাওয়ানোর নিয়ম? কেন ভুট্টা সাইলেজ খাওয়াবেন?

খামারিয়ান ওয়েবসাইট ও চ্যানেলের শ্রদ্ধেয় দর্শক সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আজকের এই পোস্ট।

বিষয়

আজকের আমরা আলোচনা করবঃ

সাইলেজ তৈরির সহজ পদ্ধতিটা কি?

বাহিরের তৈরি সাইলেজের তুলনায় নিজের তৈরি সাইলেজের গুণগতমান কেন বেশি হয়?
 
সাইলেজ এর মধ্যে কোন কোন উপাদান গুলি পাওয়া যায়?
 
সাইলেজে কোন উপাদান কত পরিমাণে থাকা উচিত?

সাইলেজ কতদিন রাখতে পারবেন? 

ছাগল এবং গরুকে সাইলেজ খাওয়ানোর পদ্ধতি?

 

ভুট্টা সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি? সাইলেজ খাওয়ানোর নিয়ম? কেন ভুট্টা সাইলেজ খাওয়াবেন?

ভুট্টাকে চাষের সময়

সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি সাইলেজ তৈরি করতে হলে আমাদের ভুট্টাকে চাষ করতে হবে। এজন্য চাই আমাদের জমি সেটা নিজস্ব হোক বা না হোক সবসময় চেষ্টা করবেন উঁচু জমি নেওয়ার।

উঁচু জমি হলে সেখানে আপনারা বছরে দুইবার চাষ করতে পারবেন, ভুট্টা চাষ করার সবথেকে ভালো সময় হচ্ছে অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাস অব্দি এর মধ্যে। কিন্তু যদি আপনি মার্চ মাসের পরে লাগান সে ক্ষেত্রে বর্ষা চলে আসবে এবার বর্ষায় ভুট্টা চাষ ভালো হয় না এবং আপনার সাইলেজ প্রোডাকশন ভাল হবে না।

আপনি যদি সঠিকভাবে ভুট্টা চাষ করতে পারেন 4 থেকে 6 টন খাবার উৎপাদন করতে পারবেন। যদি আপনার উঁচু জমি হয় তো অক্টোবর মাসে শুরু করবেন আর যদি উঁচু জমি না হয় সে ক্ষেত্রে আমরা ডিসেম্বর জানুয়ারি মাসে চাষ করবেন।

 

চাষ পদ্ধতি

যে জমিতে ভুট্টা চাষ করবেন জমিটাকে ভালভাবে চাষ করে সেটা কে সুন্দর করে শুকিয়ে নিতে হবে এবং গবর সারটা বেশি পরিমাণে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

এরপর যতটা পরিমাণ রাসায়নিক দেওয়ার প্রয়োজন সেই অনুসার আপনারা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করবেন।

এরপর ভুট্টা বীজ, সব সময় মনে রাখবেন ভালো কোয়ালিটির ভুট্টা বীজ ব্যবহার করার এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সাইজের জন্য উন্নত মানের ভুট্টা বীজ পাওয়া যায় সাউথ আফ্রিকান পাওয়া যায় পাওয়া যায় যাদের মধ্যে নিউট্রিশন ভ্যালু বেশি থাকে বেশি থাকে এছাড়াও আমাদের দেশের মধ্যে যেসব ভুট্টা বীজ পাওয়া যায় সুইটস কর্ণ পাওয়া যায়, সেই সব ভালো মানের যে হাইব্রিড ভুট্টা সেটাকে বসিয়ে দেবেন।

একটা লাইন থেকে আর একটা লাইনের ডিসটেন্স কম হলেও দুই থেকে আড়াই ফুট রাখবেন তাহলে আপনার গাছ মোটা হবে এবং খুব লম্বা হবে একটা বীজ থেকে আরেকটা বীজ বসাবেন 10 থেকে 12 ইঞ্চি।

গাছ এক ফুট হয়ে গেলে প্রয়োজন অনুসারে সেটাকে জল দিতে হবে, প্রয়োজন অনুসারে তাকে রাসায়নিক সার দিতে হবে এবং যদি বিভিন্ন ধরনের যে পোঁকামাকড় আক্রমন করে সে ক্ষেত্রে আপনাদের স্প্রে কিন্তু করতে হবে।

 

ফসল সংগ্রহ

কাটার সময় দেখবেন যখন ভূট্টা গাছের ফল আসবে এবং ফলের মাঝে দুধ ফলাফলের মধ্যে দুধ চলে আসবে, সে সময় আপনাদের কাটতে হবে।

যখন দেখবেন যে এর দুধ 90 শতাংশ চলে এসেছে সে সময় ভুট্টা গাছগুলোকে কেটে সেটাকে আপনাকে সাইলেজ তৈরি করতে হবে।

 

সাইলেজ তৈরি ও সংরক্ষণ

এবার আপনাদের কাছে ভালো মেশিন থাকতে হবে সাইলেজ তৈরি করার জন্য। সব সময় মনে রাখবেন থ্রী বা ফোর ব্লেডের মেশিন কিনবেন, ভালো কোম্পানির মেশিন নিযবেন সেটাকে দিয়ে সাইলেজ তৈরি করার জন্য।

সাইলেজ প্যকিং এর জন্য আপনাদের কাছে ড্রাম বা ব্যাগ থাকতে হবে বা নিজেও তৈরি করে নিতে পারেন।

সাইলেজ সংরক্ষণ করে রাখার জন্য এবং খাবারের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য আপনাকে সাইলেজ কালচার ব্যবহার করতে হবে সাইলেজ কালচার অর্থাৎ এটা সাইলেজকে নষ্ট হতে দেবে না তার গুণগতমান কি ঠিকঠাক রাখবে, যা অনলাইনেও আপনারা পেয়ে যাবেন।

সব সময় দেখে নেবেন ভালো মানের সাইলেজ কালচার কেনার। সব সময় ভালো মানের কালচার কেনার চেষ্টা করবেন ভুলভাল জায়গা থেকে সাইলেজ কালচার নেবেন না তাতে আপনার সাইলেজ নষ্ট হয়ে যাবে সাইলেজের গুণগত মান কমে যাবে।

আপনি যে কোম্পানির কালচার ইউজ করবেন প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকবে কত কেজিতে কত পরিমাণে দিতে হচ্ছে। এখানে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যতটা গাছকে আপনি মেশিন করবেন সেটা কিন্তু 12 ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে প্যাকিং করতে হবেনা হলে ওর মধ্যে ফাঙ্গাস চলে আসবে।

সাইলেজ কতদিন রাখা যাওবে ও কখন খায়ানো যাবে

সবসময় মনে রাখবেন যখন সাইলেজ খাওয়াবেন যখন সাইলেজ কমপ্লিট তৈরি হয়ে যাবে, 35 দিন পর থেকে খুলে খাওয়াতে পারেন, যে ব্যাগটা খুলবেন চেষ্টা রাখবেন 30 দিনের মধ্যে শেষ করার, তাহলে সাইলেজটা ঠিকঠাক থাকবে এবং আপনাদের যে সাইলেজ সেটা এক বছরের উপরে অব্দি আপনি রাখতে পারেন।

কেনা সাইলেজ ধীর্ঘ দিন রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি দীর্ঘদিন রাখতে পারেন যদি ইঁদুরের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন নিজের তৈরি সাইলেজ এক বছরের উপরে অব্দি আপনি রাখতে পারেন।

 

নিজের তৈরি সাইলেজের গুণগতমান

বাইরের সাইজের তুলনায় নিজের তৈরি নিজের গুণগতমান বেশি কেন হয় এর আমি একটা ছোট্ট উদাহরণ দিচ্ছি।

ধরুন, নিজের বাড়িতে খাসির মাংস রান্না করে খাওয়ার, আর হোটেলে গিয়ে খাসির মাংস খাওয়া। নিজের বাড়িতে আমরা কি ধরনের মাংস, কি মসলা ব্যবহার করেছি, কতটা তেল ব্যবহার করেছি, আমরা নিজেরা জানতে পারবো। কিন্তু হোটেলে সেটা খাসির মাংস, পাঁঠার মাংস, না কোন ছাগলের মাংস, আমরা কিন্তু কিছু দেখতে পারলাম না।

ওরা যখন সাইলেজ তৈরি করে সাইলেজ আমাদেরকে পাঠাচ্ছে একটা রিপোর্ট দিচ্ছে সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করতে হচ্ছে। সাইলেজের পুষ্টিগত গুণগতমান কতটা আমরা বাড়িতে নিয়ে এসে সেটার টেস্ট করাচ্ছি না। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমাদেরকে কিন্তু বিশ্বাস করতে হচ্ছে।

আর যখন আমরা নিজেরাই তৈরি করব প্রত্যেকটা জিনিস মেইনন্টেইন করব, সঠিক সময় মত  কাটব, সঠিকভাবে সেটাকে প্যাকিং করব, সঠিক কালচার ব্যবহার করব, সঠিক নিয়ম মেইনটেইন করে যখন সাইলেজ তৈরি করব অবশ্যই এর গুণগত মান বেশি হবে।

নিজের সাইলেজ তৈরির করলে এর মধ্যে কি কি উপাদান পাওয়া যায় এর পুষ্টিগুণ কত? এর একটা আমি ল্যাব টেস্ট দেখাবো আপনাদের এবং এর মাঝে কিছু কম ও কিছু বেশি হতে পারে।

সবসময় মনে রাখবেন আপনার যখন এতদিন ধরে ছাগলকে গরুকে ঘাস খাওয়ার খাওয়াচ্ছেন সেগুলো কি কোনদিন ল্যাবটেষ্ট করেছেন? তো এত সুন্দর একটা খাবারের আমরা কেন ল্যাব টেস্ট করাব! তবুও আমি আপনাদের একটা রিপোর্ট দেখাচ্ছি যে রিপোর্ট দেখলে অবশ্যই বুঝতে পারবেন আমরা যদি নরমাল ভাবে সাইলেজ তৈরি করে নিজের বাড়িতে কি কি উপাদান গুলি থাকবে, কোনটা কত পরিমাণে থাকবে, তাতে এটা গরুছাগলের জন্য উপযুক্ত কিনা।

এখানে দেওয়া রিপোর্ট একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করবেন, বাড়িতে সাইলেজ তৈরি করলে এর মধ্যে কি কি উপাদান গুলি পাওয়া যায় এবং কোনটা কত পরিমাণে থাকতে পারে নিচে দেখুন।


এখানে ড্রাই মেটার আছে 27 থেকে 37 শতাংশ।
বানানোর কমবেশি প্যাকিংয়ের কমবেশি যার জন্য একটু ডিফারেন্ট হতে পারে। তার জন্য কিন্তু খাবারের গুণমান খারাপ হবে বা নষ্ট হবে সেটা কোন কথা নয়।

এরপরে প্রোটিন এর মাত্রা রয়েছে 7%, স্টার্চ 25%, আঁশ 3%, ফ্যাট 3%, সুগার 2% সহ আরও অন্যান্য উপাদান যা খুব ভালো পরিমাণেই রয়েছে।

বন্ধুরা অবশ্যই বুঝতে পারলেন সাইলেজের মধ্যে কি কি থাকে। কোনটা কম এবং একটু বেশি হলেও কোন ক্ষতি নেই।

কেননা আমরা যখন গরুছাগলকে বাজে কোন পশুকে আহার দেই কোনটার আমরা টেস্ট করায় না। বাইরে থেকে যেগুলো কিনে নিয়েছি তারা যেভাবে রিপোর্ট দিচ্ছেন তার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমরা বিশ্বাস করতেছি, সেই ভাবে খাওয়াচ্ছি।

যখন আমি নিজেই একটা খাবার তৈরি করতেছি যে খাবারটা সম্পর্কে জানি সে খাবারটা কি করে খারাপ হতে পারে? সে খাবারের মধ্যে কি করে ভেজাল থাকতে পারে!

সবথেকে বড় প্রমাণ আমাদের ফার্মের দীর্ঘদিন ধরে আমরা সাইলেজ ব্যবহার করতেছি। এটা শুধু আমাদের ফার্মের কথা নয় এছাড়াও আমাদের রিলেটেড যত ফার্ম রয়েছে প্রত্যেকটা ফার্মে কিন্তু আমরা সাইলেজ ব্যবহার করি। প্রত্যেক জায়গায় কিন্তু সাইলেজের রেজাল্ট খুব ভালো। 

 

গরু বা ছাগলকে সাইলেজ খাওয়ানোর নিয়ম

গরু বা ছাগলকে যখন প্রথম সাইলেজ খাওয়াবেন প্রথমে অল্প অল্প পরিমাণে দেবেন। ছাগলকে যখন সাইলেজ খাওয়াবেন পারলে অল্প পরিমাণে সাইলেজ দিন এবং তার সাথে গুড়, খৈল, ভূসি ইত্যাদি ওর মধ্যে ছড়িয়ে খাওয়ানো শেখাতে পারেন। এবার আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে সেটা অভ্যস্ত হয়ে গেলে তারপর আপনি বাকি জিনিসগুলোর বাদ দিয়ে শুধু সাইলেজ খাওয়াতে পারবেন।

বন্ধুরা আপনারা যদি সবসময় যদি ”খামারিয়ান” এর সঙ্গে থাকেন আমাদের সাপোর্ট করেন, উৎসাহ, সাহস এবং ভালোবাসা দেন অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব আরও ভালো ভালো আপনাদেরকে দেওয়ার। দেখা হবে পরবর্তী কোন বিষয় নিয়ে।

এই পোষ্টটি কেমন লেগেছে?

রেটিং দিতে স্টার এ ক্লিক করুন!

Average rating 4.2 / 5. Vote count: 5

No votes so far! Be the first to rate this post.

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

(চাইলে পোষ্টটি শেয়ার করতে পারেন)

2 thoughts on “ভুট্টা সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি? সাইলেজ খাওয়ানোর নিয়ম? কেন ভুট্টা সাইলেজ খাওয়াবেন?”

  1. হাফিজ এমাদ উদ্দিন

    আপনাদের লাছ থেকে ভুট্রার কালচার নিতে চাই।জানাবেন কিভাবে কি করতে হবে।

  2. আপনাদের সাইলেজ কালচার খুব ভালো। আমি কিনছিলাম। আমার আবার অনেক সাইলেজ কালচার লাগবে। আশা করি ফিরিয়ে দিবেন না। ধণ্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.