Skip to content

 

হাঁসের জাত পরিচিতিঃ খাকী ক্যাম্পবেল, ইন্ডিয়ান রানার, বেইজিং, সিলেট মোটে, নাগেশ্বরী ও রাজহাঁস।

হাঁসের জাত পরিচিতিঃ খাকী ক্যাম্পবেল, ইন্ডিয়ান রানার, বেইজিং, সিলেট মোটে, নাগেশ্বরী ও

হাঁসের জাত পরিচিতিঃ

বিশ্বে যে সব উন্নত হাঁসের জাত ও উপজাত আছে তা এশীয় জাত ও উপজাত থেকে উদ্ভূত। পৃথিবীতে ২০টির অধিক হাঁসের জাত ও উপজাত আছে বলে জানা যায়। হাঁসের জাতকে প্রধানত নিম্নোক্ত তিন ভাগে ভাগ করা যায় ।

১। মাংসল জাত (Meat breed) যেমন- পিকিন, আইলসবেরী, মাসকোভি ইত্যাদি।

২। ডিম পাড়া জাত (Layer breed) যেমন— খাকী ক্যাম্বেল, ইন্ডিয়ান রানার ইত্যাদি।

৩। সৌন্দর্যবর্ধক জাত (Ornamental breed) যেমন- শেলড্রেক, রোয়েন ইত্যাদি।

বিদেশি উন্নত জাতের হাঁসঃ

বাংলাদেশে সাধারণত যে সব উন্নত জাতের হাঁস পাওয়া যায় সে সম্পর্কে নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

১. খাকী ক্যাম্পবেল (Khaki Campbell) জাতের হাঁস

→ দুই মাসে এদের ওজন প্রায় ২ কেজির কাছাকাছি হয়। এ জাতের হাঁসের চোখ উদগত বা সুস্পষ্ট এবং চটপটে দেখায়। এদের উদর মোটা ও পায়ের রং কমলা রংয়ের হয়।

→ ১৯০১ সনে বৃটেনের মিসেস কেম্বেল হাঁসের এ জাতটি উদ্ভাবন করেন। এ জাতের হাঁসের দেহের রং খাকী

→ হওয়ায় এবং মিসেস কেম্বেলের নামানুসারে জাতটির নাম হয়েছে খাকী ক্যাম্পবেল।

→ এটি একটি ডিম পাড়া হাঁসের জাত। এরা বছরে ২০০-৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে।

খাকী ক্যাম্পবেল (Khaki Campbell) জাতের হাঁস রাজহাঁস (Goose) পরিচিতি (khamarian.com) (খামারিয়ান ব্লগ)
চিত্র- খাকী ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস

২. ইন্ডিয়ান রানার (Indian Runner) জাতের হাঁস

→ এটি একটি ডিম পাড়া জাত। বছরে ২০০টির অধিক ডিম দেয়। তবে এরা ডিমে তা দিতে বসতে চায় না।

→ এদের মাথার উপরিভাগ বেশ চওড়া এবং চোখ অধিক ডিম দেয়। তবে এরা ডিমে তা দিতে বসতে চায় না।

→ এ জাতের দেহ বেশ স্লিম এবং গলা বেশ লম্বা ।

→ এ জাতের হাঁস প্রথমে ইস্ট ইন্ডিজে উৎপত্তি। তবে এদের ডিম পাড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে পশ্চিম ইউরোপে। এটি ভারতীয় জাতের হাঁস হলেও বর্তমানে বিভিন্ন দেশে এজাতটি পালিত হয়।

→এদের তিনটি উপজাতের মধ্যে সাদা উপজাতটি অধিক জনপ্রিয়।

ইন্ডিয়ান রানার (Indian Runner) জাতের হাঁস রাজহাঁস (Goose) পরিচিতি (khamarian.com) (খামারিয়ান ব্লগ)
চিত্র- ইন্ডিয়ান রানার।

৩. বেইজিং (Beijing) জাতের হাঁস

→ দু’টো উপরের দিকে অবস্থিত।

→ এদের গায়ের রং সাদা এবং দেখতে আকর্ষণীয়।

→ বছরে এরা ১০০-১৫০ টি বড় আকারের ডিম দিয়ে থাকে।

→ চীন দেশের এ জাতের চাঁদ মাংসের জন্য বিখ্যাত। এদের মাংস বেশ সুস্বাদু।

→ এ জাতের পুরুষ হাঁসের ওজন ৪-৫ কেজি এবং স্ত্রী হাঁসের ওজন ৩-৪ কেজি হয়।

বেইজিং (Beijing) জাতের হাঁস রাজহাঁস (Goose) পরিচিতি (khamarian.com) (খামারিয়ান ব্লগ)
চিত্র- বেইজিং জাতের হাঁস

বিশেষ তথ্য :

→ খাকী ক্যাম্পবেল জাতের হাঁসের ডিম তিন দিন গুদামজাত করে ৮৪.৪% এবং ৯ দিন গুদামজাত করে ৬৯.৪% ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

→ খাকী ক্যাম্পবেল, ইন্ডিয়ান রানার ও দেশী জাতের হাঁসের তুলনামূলক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, খাকী ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস ইন্ডিয়ান রানার ও দেশী জাতের হাঁস অপেক্ষা তাৎপর্যপূর্ণভাবে অধিক ডিম দেয়।

চিত্র- ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁস

বাংলাদেশের হাঁস ও রাজহাঁসের জাতঃ

বাংলাদেশে প্রধানত দু’টি হাঁসের জাত আছে বলে জানা যায়। তবে এসব জাতের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে।

১. সিলেট মোটে (Sylhet Mete)

→ হালকা পিঙ্গল বর্ণের এই হাঁসের পালকের আগা কাল বর্ণের হয়।

→ বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পূর্বাংশে হাঁসের এই জাতটি পাওয়া যায়।

→ বছরে ৮০-১৫০টি ডিম দেয়।

২. নাগেশ্বরী (Nageswari)

→ এ জাতের হাঁস কালো বর্ণের তবে গলা ও বুকের কাছে রং সাদা হয়।

→ বাংলাদেশ ও ভারতের আসাম রাজ্যের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে প্রধানত এ জাতের হাঁস দেখা যায় ।

→ সিলেট মোটে জাতের তুলনায় নাগেশ্বরী আকৃতিতে বড় তবে ডিম উৎপাদন প্রায় একই রূপ।

৩. রাজহাঁস (Goose)

→ প্রধানত গ্রাম অঞ্চলে মুক্ত পালন ব্যবস্থায় সৌখিন লোকেরা রাজহাঁস পালন করে।

→ সাধারণত বাংলাদেশে সাদা ও ধূসর রংয়ের রাজহাঁস দেখা যায়।

→ রাজহাঁসের দৈহিক ওজন ৪-৬ কেজি এবং এরা বছরে ৩০-৪০টি ডিম দেয়।

রাজহাঁস ছবি (Goose) (khamarian.com) (খামারিয়ান ব্লগ)
চিত্র- দেশী জাতের রাজহাঁস

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!