Skip to content

ভেড়ার জাত | ভেড়ার জাতের নাম | ভেড়ার জাত পরিচিতি | ভেড়ার জাত | উন্নত জাতের ভেড়ার নাম | ভেড়ার উন্নত জাতের নাম | bheṛar jat poriciti । bheṛar unnoto jater nam

ভেড়ার জাত | ভেড়ার জাতের নাম | ভেড়ার জাত পরিচিতি | ভেড়ার জাত | উন্নত জাতের ভেড়ার নাম | ভেড়ার উন্নত জাতের নাম

# ভেড়ার জাত # ভেড়ার জাতের নাম # ভেড়ার জাত পরিচিতি # ভেড়ার জাত # উন্নত জাতের ভেড়ার নাম # ভেড়ার উন্নত জাতের নাম # bheṛar jat poriciti # bheṛar unnoto jater nam

Table of contents

★ ভেড়ী (Ewe) – হলো অন্তত একবার বাচ্চা প্রসবকারী স্ত্রী জাতীয় ভেড়া।

★ ভেড়া (Sheep) – হলো স্ত্রী-পুরুষ উভয় ভেড়াকে বোঝায়।

★ ভেড়া (Ram/Tup) – হলো পূর্ণ বয়স্ক প্রজননক্ষম পুরুষ ভেড়াকে বোঝায়।

★ ভেড়া শাবক (Lamb) – হলো স্ত্রী-পুরুষ উভয় ভেড়ার বাচ্চাকে বোঝায়।

★ সেগি (Seggy) – হলো জনন কাজে ব্যবহারের পর যে পাঁঠাকে খাসী করা হয়।

★ মাটন (Mutton) – হলো পূর্ণ বয়স্ক ভেড়ার মাংস।

★ ভেড়া শাবক (Ram lamb/Tup lamb) – হলো ভেড়ীর অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ বাচ্চাকে বোঝায় ।

★ ভেড়ী শাবক (Ewe lamb/Gimmer lamb) – হলো ভেড়ীর অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী বাচ্চাকে বোঝায় ।

★ খাসী ভেড়া (Wether) – হলো মাংসের জন্য পালিত খাসী করা ভেড়াকে ওয়াদার বলে ।

★ ল্যাম (Lamp) – হলো ছয় মাসের কম বয়সের ভেড়ার মাংস।

X4TcAy9sNq4GddNLF aPjLtBTMcMT0 QURnNabfjsCZ kHeCC fTJFu6UrcuuJgz70bGn Cr Au5SqQssIq2yUFYzMlXFwcEndQaNmGvjYrZRiYF0RZiHeAhlu2urH ভেড়ার জাত | ভেড়ার জাতের নাম | ভেড়ার জাত পরিচিতি | ভেড়ার জাত | উন্নত জাতের ভেড়ার নাম | ভেড়ার উন্নত জাতের নাম | bheṛar jat poriciti । bheṛar unnoto jater nam Uncategorized, ছাগল ও ভেড়া ভেড়ার জাত ভেড়ার জাত

চিত্র : ভেড়ার বহিঃদেশের বিভিন্ন অংশের নাম। ১ = মুখ, ২ = মাজেল, ৩ = নাক, ৪ = কপাল, ৫ = পোল, ৬ = শিং, ৭ = ঘাড়, ৮ = স্কন্ধ, ৯ = পিঠ, ১০ = হিপ, ১১ = লেজ, ১২ = পিছনের পা, ১৩ = বক্ষস্থল, ১৪ = সিনা।

ভেড়া ক্যাপরিনি (Caprinae) উপ-গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং সকল গৃহপালিত ভেড়া ওভিস (Ovis), জেনাস এবং ওভিস এরিস (Ovis aries) প্রজাতিভুক্ত। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ ভেড়ার ৭টি প্রজাতি আছে বলে বিবেচনা করেন।

➡ ১। আর্গলি মাউন্টেন ভেড়া (Argali mountain sheep = Ovis ammon) – সেন্ট্রাল এশিয়ায় অনেক উপ-জাতির ভেড়া রয়েছে।

➡ ২। গৃহপালিত ভেড়া (Domestic sheep = Ovis aries)।

➡ ৩। বিগহর্ন ভেড়া (Bighorn sheep = Ovis canadensis) – কমপক্ষে ৮টি উপ-প্রজাতির ভেড়া উত্তরস্থ এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় এখনও জীবিত রয়েছে।

➡ ৪। মাউফলোন ভেড়া (Moufflon sheep = Ovis musimen) – এই প্রজাতির মধ্যে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় কমপক্ষে দু’টি উপ-প্রজাতি জীবিত রয়েছে।

➡ ৫। ইউরিয়াল ভেড়া (Urial sheep = Ovis arientalis Synonym Ovis vignei) – এই প্রজাতির মধ্যে কম পক্ষে ১৩টি উপ-প্রজাতি আফগানিস্তান থেকে পশ্চিম এশিয়ায় রয়েছে।

➡ ৬। সরু শিং বিশিষ্ট ভেড়া (Thin horn sheep = Ovis dalli)।

➡ ৭। তুষার ভেড়া (Snow sheep = Ovis nivicola)।

➡ ১০। ক্রোমোজোম বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে গৃহপালিত ভেড়ার ক্রোমোজোমের সংখ্যা ৫৪ (2n = 54) কিন্তু ইউরিয়াম, অ্যার্গালি ও মাউফলোন ভেড়ার ক্রোমোজোমের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৮, ৫৬ এবং ৫৪ এবং এর থেকে প্রমান হয় যে, গৃহপালিত ভেড়ার পূর্বপুরুষ মাইফলোন ভেড়া।

➡ ১১। ভেড়া ও ছাগল প্রায় একই সময়ের গৃহপালিত প্রাণী । উভয় প্রাণীই প্রাচীনকালে কৃষি কাজের সূচনার আগেই গৃহে পালিত হতো।

➡ ১২। খুব সম্ভবতঃ পশ্চিমন্থ এশিয়ার উর্বর বর্ধিষ্ণু খোলা অরণ্য ভূমিতে ভেড়াকে প্রথম গৃহে পোষ মানানো হয়। কারণ মাউফলোন প্রজাতির ভেড়া (2n = 54) এ অঞ্চলে ছিল। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় উত্তরপূর্ব ইরাকের এক এলাকায় (Zawi chemi shanidar) প্রায় ১১,০০০ বছর পূর্বে গৃহপালিত ভেড়া ছিল ।

ভেড়ার জাত শ্রেণিবিভাগের তেমন কোন গ্রহণযোগ্য ক্রাইটেরিয়া না থাকলে নিম্নোক্ত ক্রাইটেরিয়ার উপর ভিত্তি করে ভেড়া জাতের শ্রেণিবিভাগ করা যায়।

  • দেহ লোমশ বা পশম আবৃত;
  • সরু লেজ;
  • মোটা লেজ;
  • মোটা নিতম্ব;
  • শিংযুক্ত;
  • শিংহীন।

এছাড়াও নিম্নোক্তভাবেও ভেড়ার জাতের শ্রেণিবিভাগ করা যায়।

১। লোমশ ভেড়া (Hairy sheep)

সরু-লেজ (Thin-tailed)- ফরেস্ট টাইপ যেমন- ডিজ্যালোনকি (Djallonke), পশ্চিম আফ্রিকায় স্যাভ্যানা (Savanna), টাইপ- যেমন ফ্ল্যানি (Flani syn. Ouda, Uda), সুদান ডেজার্ট।

মোটা লেজ (Fat tailed) – ডনগোলা (Dongola), জ্যাঘহাওয়া (Zaghawa) সুদান।

২। পশমযুক্ত ভেড়া (Woolled sheep)

সরু লেজ (Thin tailed) – অ্যারাব (Arab), বারবার (Berber), অ্যারিট (Arrit), মাসিনা (Macina)।

মোটা লেজ (Fat tailed) – অ্যাকেলি গুজাই (Akele guzai), টাকার (Tucur), মেঞ্জ (Menz), আর্সি (Arsi), ম্যাসাই (Masai)।

মোটা নিতম্ব (Fat rumbed) – অ্যাডলি (Adal, Euthiopia), ব্লাক হেড সোমালি (Euthiopia), সোয়ালিয়া (Kenya)।

১। লোমশ ভেড়া (Hairy sheep)

সরু-লেজ (Thin-tailed) – নেজদি (Nejdi, syn, bedouin), অ্যারাবিয়ান লং-টেইলড (সৌদি আরব, ইরাক)।

মোটা-লেজ (Fat-tailed) – র‍্যাডম্যানি (Radmani, Aden & Yemen)।

২। পশম আবৃত ভেড়া (Wooled sheep)

সরু লেজ (Thin-tailed) – জেল (Zel), ইরান।

মোটা-লেজ (Fat tailed) – অ্যাওয়াসি (Awassi, syn. Beludi), অ্যারাবি (Arabi, syn, Shafali, Jordan, Iraq), বালুচি (Baluchi, Iran and pakistan)।

১। লোমশ ভেড়া (Hairy sheep)

সরু লেজ (Thin tailed) – বালানগির (Balangir), একটি সংমিশ্রণ জাত যেমন- কয়েমবাটোর (Coimbatore), টাসমানিয়ান মেরিনো (Tasmanian merino), চেভিওট (Cheviot) ও সাউথ ডাউন (South-down), বেল্লায়ারি (Bellary), বোনপালা, ছোট্টনাগপুরি (Chottanagpuri), দিক্যানি (Deccani), গানজ্যাম (Ganjam), কেনগুরি   (Kenguri), কিলাকারসাল (Kilakarsal), মাদ্রাজ রেড (Madras red), মেনডায়া (Mendya), মিচেরি (Mecheri), নেলোর (Nellore), রামনাড সাদা (Rhamnad white), শাহবাদি (Shahabadi), টিরাচি ব্লাক (Tirachi black), ভেমবুর (Vembur, India), জানা (Jaffna, Sri Lanka) ।

২। পশমযুক্ত ভেড়া (Woolled sheep)

সরু লেজ (Thin-tailed)- চোকলা (Chokla), নালি (Nali), মারওয়াড়ি (Marwardi), মাগ্রা (Magra, syn. Bikaneri), জেসালমেরি (Jaisalmeri, syn. Lohi), পিউগাল (Pugal), মালপুরা (Malpura, syn. Desi), সোনাডি (Sonadi), পাটানওয়াডি (Patanwadi), মজাফরনাগরি (Muzzafornagri), জালাউনি (Jalauni), হাসান (Hassan), নিলগিরি (Nilgiri), হিসারডাল (Hissardale, India)।

(i) পশমযুক্ত ভেড়া (Wooled sheep)

সরু লেজ (Thin-tailed) – জাভানিজ (Javanese), ম্যালেসিয়ান (Malaysian, syn. Ketantan), থাই (Thai, Thailand)।

মোটা লেজ (Fat tailed) – প্রাইঅ্যানগাল (Priangan)- একটি সংমিকু জাত যেমন মেরিনো merino), কেপ (Cape), জাভ্যানিজ (Javanese), পূর্ব জ্যাভানিজ (East Javanese, Syn. Donggala, Indonesia)।

(ii) বৃষ্টিপাত অনুযায়ী (According to Rainfall)

১। অল্প বৃষ্টিপাত অঞ্চল (Low rainfall areas) – সোমালি (Somali), মোহিস্টানি দুম্বা (Mohistani dumba), বালুচি Baluchi দুম্বা ।

২। মাঝারি ও অল্প বৃষ্টিপাত অঞ্চল (Medium and low rainfall areas)- মেরিনো (Merino), খোকা (Kooka), ডরপার (Dorpar)।

৩। উচ্চ বৃষ্টিপাত অঞ্চল (High rainfall areas) – হ্যাম্পশায়ার ডাউন (Hampshire down), রামনে মার্শ। (Ramney Marsh), করিওডালি (Corriodale) ইত্যাদি।

(iii) পশম উৎপাদন অনুযায়ী (According to wool produced)

১। সূক্ষ্ম (উত্তম) পশম জাত (Fine wool breeds)- বিবোঢলেট (Debouillet), র‍্যামবোলেট (Rambouillet), ডিলেন মেরিনো (Delaine Merino) ইত্যাদি।

২। মধ্যম পশম জাত (Medium wool breed) – চেভিয়োট (Cheviot), ডরসেট (Dorset), ফিনশীপ (Finnshepp), হ্যাম্পশায়ার (Hampshire), মোন্টাডালি (Montadale), অক্সফোর্ড (Oxford), শ্রাউপশাইন (Shropshine), সাউথডাউন (Southdown), সাফ্লোক (Sufflok), টিউনিস (Tunis) ইত্যাদি।

৩। কার্পেট পশম জাত (Mack-faced highland) – ব্লাক ফেস্ড হাইল্যান্ড।

৪। লম্বা পশম জাত (Long-wool breed) – সীটসউওল্ড (Cestswold), লেলসেস্টার (Lelcester), লিনকয়েন (Lincoin), রোমনে (Romney) ইত্যাদি।

৫। সংকর জাতীয় পশম জাত (Cross-bred wool breeds) – কলাম্বিয়া (Columbia), করিডালি (Corriedale), পানামা (Panama), টার্গিই (Targhee) ইত্যাদি।

৬। ফার ভেড়া জাত (Fur sheep breed) – কারক (Karak)।

(iv) উদ্দেশ্য অনুযায়ী (According to purposes)

১। পশম উৎপাদনকারী জাত (Wool producer breed) – মেরিনো, ডিবোকিলেট (Debokillet), র‍্যামবোয়েলেট (Rambouillet) ইত্যাদি।

২। দ্বৈত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত জাত (Dual purpose breeds) – কোলাম্বিয়া (Columbia), করিডালি (Corriedale), মোন্টাডালি (Montadale) ইত্যাদি।

৩। মাংস জাত ভেড়া (Mutton breeds) – চেভিয়োট (Cheviot), ডরসেট (Dorset), হ্যাম্পশায়ার (Hampshire), অক্সফোর্ড (oxford), সাউথডাউন (Southdown), সাফ্লেক (Sufflok)।

ভারতে প্রায় ৪০টি ভেড়ার জাত আছে বলে জানা যায়। নিম্নে কতিপয় জাতের ভেড়ার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো।

(i) নাতিশীতোষ্ণ হিমালয়ান অঞ্চল (Temperate Himalayan region)

গুরেজ (Gurez)

  • গুরেজ জাতের ভেড়া কাশ্মীর রাজ্যের উচ্চ এলাকায় অবস্থিত গুরেজ গহসিলে বাসস্থান।
  • অধিকাংশ সাদা, লম্বা ও উজ্জ্বল পশম উৎপাদনের জন্য এ জাতের ভেড়া বিখ্যাত।
  • প্রতিটি ভেড়াে থেকে বছরে গড়ে ১.৫ কেজি পশম উৎপাদিত হয়।

ভাকারয়াল (Bhakarwal)

  • হিমালয় পাহাড়ে নিম্নাঞ্চলে এ জাতের ভেড়ার আদিবাস এবং পরবর্তীতে কাশ্মীর, কানগ্র্যারা (Kangra) ও
  • কুলু (Kulu) উপত্যকায় এনে পালন করা হয়।
  • এ জাতের ভেড়ার পশম লম্বা এবং মোটা আঁশ মিশ্রিত।
  • একটি ভেড়া থেকে বছরে গড়ে ১.৫ কেজি পশম পাওয়া যায়।
  • এ জাতের ভেড়ার কান লম্বা, চওড়া এবং ঝোলানো।

গাদ্দি (Gaddi)

  • ছোট আকৃতির ভেড়া। পাহাড়ী অঞ্চলে চলাফেরায় সক্ষম। লেজ ও কান ছোট, শিং আছে, তবে ভেড়ীর শিং থাকেনা।
  • সাধারণত সাদা রংয়ের তবে মুখ রঙ্গীন হয়।
  • বছরে ভেড়া প্রতি ১-১.৫ কেজি পশম পাওয়া যায়।
  • এ জাতের ভেড়া হিমালয় প্রদেশের চাম্বা (Chamba) এবং মান্ডি জেলায় এবং পাঞ্জাবের কানগ্রা (Kangra) উপত্যকায়ও রয়েছে।
  • শাল ও কম্বল তৈরিতে এ জাতের পশম ব্যবহার হয়।

রামপুর-বুসায়ার (Rampur-Bushiar)

  • এ জাতের ভেড়ালোম রঙিন এবং সূক্ষ্ম কাপড় প্রস্তুতে ব্যবহার হয়।
  • এটি ভেড়ার একটি জনপ্রিয় জাত। এ জাতটির উৎপত্তিস্থল হিমাচল প্রদেশের মাসো (Maso) জেলায় ।
  • এ জাতের একটি ভেড়া থেকে প্রতি বছর ১-২ কেজি পশম পাওয়া যায়।

(ii) শুষ্ক পশ্চিম অঞ্চল (Dry western region)

লোহি (Lohi)

  • আকারে বড়সড়। দৈহিক ওজন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি।
  • গায়ের রং সাদা, মুখ ও কান লালচে বর্ণের।
  • কান বেশ বড় ও ঝুলে থাকে।
  • বছরে প্রতি ভেড়া থেকে ২-২.৫ কেজি পশম পাওয়া যায়।
  • মোটা ভেড়ালোম ছাড়াও এ জাতের ভেড়ার মাংস উন্নত ধরনের এবং পর্যাপ্ত দুধও দেয়।
  • পাকিস্তান ও ভারতে পালিত ভেড়ার মধ্যে লোহি একটি বড় জাতের ভেড়া।
  • ভারতের ক্যায়ালপুর (Cayallpur) ও ঝং (Jhang) এবং পাকিস্তানের মন্টগোমারী, লায়ালপুর, মুলতান, মিয়ানওয়ালী ও মুজাফরগড় জেলায় এ জাতের ভেড়ার বাস।

বিকানেরি (Bikaneri)

  • চোকলা টাইপ ভেড়ার মুখমন্ডলে গাঢ় ব্রাউন এবং কাল ছাপ থাকে এবং চুরু (Churu), জুন (June) ও সিকার (Sikar) জেলায় এ টাইপের ভেড়া পাল দেখা যায়।
  • নালী টাইপ ভেড়ার দেহ বড়সড় আকারের, আঁটসাঁট মাথা, বড় ও পাতা সাদৃশ্য কান, হলদে বর্ণের খুর বিশিষ্ট ছোট পা, হালকা বাদামী চুল দ্বারা মাথা আবৃত।
  • ভেড়ার দৈহিক ওজন ৩৫-৪০ কেজি এবং প্রতি ভেড়া থেকে প্রতিবছরে ২.৫-৩.৫ কেজি পশম পাওয়া যায়।
  • বিকানেরি রাজস্থান প্রদেশের বাদামী মাথা বিশিষ্ট একটি বিখ্যাত ভেড়া। এ ভেড়ার পশম থেকে উৎকৃষ্ট মানের কার্পেট তৈরি হয়।
  • এ জাতের মধ্যে স্পষ্ট তিনটি টাইপের ভেড়া রয়েছে। যথা— চোকলা (Chokla), মাগ্রা (Magra) এবং নালী (Nali)।
  • এ জাতের ভেড়ার দেহ আঁটসাঁট এবং একটি ভেড়া থেকে বছরে ১.৫ কেজি পশম পাওয়া যায় ।
  • মাঝারি আকৃতির ও দেহ আঁটসাঁট, শক্ত কান ও ছোট পা, মাথা ছোট ও বাদামী বর্ণের। বছরে ১.৫-২.৫ কেজি পশম হয়।

মারওয়াড়ি (Marwari)

  • মারওয়াড়ি জাতের ভেড়ার বাসস্থান রাজস্তান প্রদেশের জোধপুর (Jodhpur) এবং জয়পুর (Jaipur) বিভাগ।

কুটচি (Kutchi)

  • প্রতিটি ভেড়া থেকে উন্নতমানের সাদা ভেড়ালোম বছরে প্রায় ১ কেজি করে পাওয়া যায়।
  • উত্তর গুজরাট এবং সন্নিহিত কুট্চ (Kutch) ও সয়াসাশট্রা (Sausashtra) রাজ্যে এ জাতের ভেড়া পাওয়া যায়।
  • পশ্চিম কুটচের নালী অঞ্চলে এ জাতের উন্নতমানের ভেড়া পালন করা হয়।

(iii) দক্ষিণ অঞ্চল (Southern region) :

দিক্যানি (Deccani )

  • মূলত মাংসের জন্য এ জাতটি পালন করা হয়।
  • ভেড়ার স্কন্ধের (Wither) উচ্চতা হয় ৬৫ থেকে ৬৯ সেন্টিমিটার এবং দৈহিক ওজন হয় ৩৬ থেকে ৪০ কেজি।
  • মহারাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল এবং সন্নিহিত অন্ধ্রপ্রদেশ ও মহিশুর রাজ্য এ জাতের ভেড়ার বাসস্থান।
  • শক্ত সমর্থ ছোট জাতের ভেড়া, সরু গলা, অপ্রশ্বস্থ বক্ষস্থল, ভেড়ার শিং থাকে কিন্তু ভেড়ীর শিং হয়না এবং ছোট লেজ।
  • দেহের রং (ভেড়ার লোম) সাধারণত কালো ও ধূসর বর্ণের।
  • ভেড়ালোম মোটা এবং একটি ভেড়া থেকে বছরে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম পশম পাওয়া যায়।

নেলোরি (Nellore) :

  • পশমের পরিবর্তে দেহ লোম দ্বারা আবৃত।
  • নেলোরি জাতের ভেড়ার বাস প্রধানত অন্ধ্র প্রদেশের আর্দ্র ও গরম অঞ্চলে।
  • এ জাতের ভেড়ার সাধারণত লম্বা পা এবং দেহ পাতলা ।

বেলারি (Bellary) :

  • অন্ধ্র প্রদেশের বেলারি ও কুরনোল (kurnol) জেলায় এ জাতের ভেড়ার বাসস্থান।
  • এ জাতের ভেড়ার পশম মোটা ও কালো। চামড়ার বেশ চাহিদা রয়েছে।

ম্যানডায়া (Mandya)

  • এ জাতের ভেড়া থেকে উন্নত মানের মাংস পাওয়া যায়।
  • কার্নটাক রাজ্যে এ জাতের ভেড়ার বাসস্থান।
  • লম্বা ঘাড় এবং লম্বা পা হয় ফলে শক্ত মাটিতে অনেক পথ হাটার জন্য উপযোগী।

বান্নুর (Bannur)

  • মাংস উৎপাদন উপযোগী এ জাতের ভেড়ার ছোট আঁটসাঁট দেহ এবং ছোট অস্থি পর্যাপ্ত মাংসপেশী দিয়ে আবৃত।
  • কর্নাটাকা রাজ্যে এ জাতের ভেড়া মিশ্রিত ফার্মিং সিস্টেমে পালন উপযোগী।

নীলগিরি (Nilgiri)

  • উনবিংশতম শতাব্দীতে (19th Century) মহিশুরের আসল সুক্ষ্ণ পশম জাতের ভেড়ার সাথে টাসমানিয়ান
  • মেরিনো, চেভিয়োট এবং সাউথডাউন জাতের ভেড়ার ক্রসের ফলে এ জাতের সৃষ্টি বলে ধারণা করা হয়।
  • দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি জেলায় এ জাতের ভেড়ার বাসস্থান এবং দক্ষিণ ভারতে মসৃণ পশমী পোশাক
  • প্রস্তুতের একমাত্র ভেড়ার জাত।
  • এ জাতের ভেড়ার দেহের রং সাদা, শিংহীন জাতের ফ্রন্ট্যাল অস্থি সুস্পষ্ট ও রোমান নাক।
  • প্রতি বছর প্রতিটি ভেড়া থেকে ৯০০ গ্রাম এবং ভেড়ী থেকে ৬০০ গ্রাম উন্নত মানের পশম পাওয়া যায়।
  • প্রাপ্ত বয়স্ক ভেড়ার ওজন ৩৯ কেজি এবং ভেড়ীর ওজন ২৯ কেজি হয়।

কয়মবাটোর (Coimbatore)

  • মোটা সাদা পশম বিশিষ্ট এ ভেড়ার জাতকে স্থানীয়ভাবে কয়মবাটোর কুরামবাই (Kurambai) অথবা
  • কয়মবাটোর হোয়াইট বলা হয়।
  • পাশ্চাত্য দেশীয় ভেড়ার জাত

সংক্ষিপ্ত আকারে পাকিস্থানের ৯ টি ভেড়ার জাতের বর্ণনা করা হলো:

বিব্রিক (Bebrick) জাতের ভেড়া

  • আবাসস্থল : বেলুচিস্তানের প্রস্তরময় সিবি ওলরানাই জেলা ।
  • নাকের অংশ কালো বাকী অংশ দুধের মত সাদা। উৎকৃষ্ট পশমের জন্য এ জাত প্রসিদ্ধ । দৈহিক গড় ওজন প্রায় ৩০ কেজি।
  • এটি দুম্বা জাতীয় মেষ। শুকনা সামান্য ঘাস খেয়েই এদের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।

কালো দুম্বা (Black dumba)

  • আবাসস্থল : পেশোয়ার অঞ্চল।
  • পাকিস্তানের মোট মেষের অর্ধেকাংশই এ জাতের দুম্বা। এ জাতের মেষ খুব চর্বিযুক্ত।
  • গায়ের রং মিশমিশে কালো। তাই এদের অন্ধকারে দেখা যায়না। লেজ বেশ মোটা ও চর্বিযুক্ত।
  • দৈহিক গড় ওজন প্রায় ৪০ কেজি। মাংস বেশ সুস্বাদু কিন্তু চর্বিপূর্ণ। এ জাতের মেষের পশম কম্বল ও গালিচা তৈরিতে ব্যবহার হয়।

দামানী (Damani sheep) জাতের ভেড়া

  • আবাসস্থল : পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খাঁ ও বান্নু জেলা।
  • মধ্যম আকৃতির, রং সাদা তবে মাথার দিকে রং কালচে। দৈহিক ওজন প্রায় ২৫-২৬ কেজি।
  • মাংস ও দুধ ছাড়াও বছরে প্রতি মেষ থেকে ১.৫-২ কেজি লোম পাওয়া যায়।

লোহি (Lohi sheep) জাতের ভেড়া

  • আবাসস্থল : মুলতান,
  • মিয়ানওয়ালী, মন্টোগোমারী, লায়ালপুর ও মুজাফফরগড় জেলা।
  • আকারে বড়সড়। দৈহিক ওজন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি। গায়ের রং সাদা, মুখ ও কান লালচে বর্ণের। কান বেশ বড় ও ঝুলে থাকে।
  • বছরে প্রতি মেষ থেকে ২-২.৫ কেজি পশম পাওয়া যায়।

কাজলী (Kazli) জাতের ভেড়া

  • আবাসস্থল : সারগোধা ও গুজরাট জেলা। বেশ উঁচু ও বড়, বাঁকা নাক, কেজি পশম হয়।
  • দৈহিক ওজন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি এবং বছরে প্রতি মেষ থেকে ১.৫-২.৫ কেজি পশম হয়।

বাচ্চি (Bachee sheep) জাতের ভেড়া

  • আবাসস্থল : বাহওয়ালপুর ও কোহিস্থান অঞ্চল ।
  • মাথা, মুখ ও কান বাদামী রঙের এবং দেহের অবশিষ্ট অংশ সাদা, দৈহিক ওজন ১৫ থেকে ২০ কেজি, অতিরিক্ত গরম ও শীত কোনটাতেই কাবু হয়না।
  • বছরে ২ থেকে ২.৫ কেজি পশম হয়।

কোহিন্তানী দুম্বা (Kohistani dumba)

  • লেজ বেশ মোটা ও ভারী, বর্ণ কালো বা সামান্য তামাটে সাদা ও কান ছোট ।
  • উন্নতমানের মাংসল জাত এবং কিছু পশমও পাওয়া যায়।

নালুচি দুম্বা (Naluchi dumba)

  • কোহিস্তানী দুম্বার মতই তবে সাধারণত সাদা বর্ণের উন্নতমানের লোম পাওয়া যায়।
  • এছাড়া কান শিথিল । এরা অধিক কষ্টসহিষ্ণু।

খোকা (Kooka sheep) জাতের ভেড়া

  • ছোট শিং অথবা শিংবিহীন। লম্বা ঘাড়, রোমান নাক, চ্যাপ্টা কালো বর্ণ এ জাতের বৈশিষ্ট্য ।
  • পাকিস্তানের সিন্ধু ও থারপারকার জেলায় এ জাতের ভেড়ার বাসস্থান।
  • মধ্যম আকৃতির সরু লেজ বিশিষ্ট দুধাল জাতের মেষ।
  • দৈহিক ওজন ৩০ থেকে ৩১ কেজি। বছরে প্রতি মেষ থেকে ২.৫ – ৩ কেজি লোম পাওয়া যায়।

মেরিনো (Merino)

  • ভেড়ার শিং থাকে আবার শিং বিহীনও দেখা যায়।
  • ঘাড় ও স্কন্ধের ত্বক কোঁচকানো। এ জাতটি মোটামুটি কষ্ট সহিষ্ণু।
  • সকল মেরিনো ছাইপ ভেড়ার পশম বেশ ঘন, তন্তু, চিকন, আঁশ বা সুতা শক্ত ও কোঁকড়ানো ।
  • প্রায় বয়স্ক ভেড়ার ওজন প্রায় ৯০ কেজি এবং ভেড়ীর ৭০ কেজি।
  • মেরিনো জাতের ভেড়ার উৎপত্তিস্থল স্পেন।
  • সাধারণত সাদা বর্ণের, তবে মুখ, কান ও পায়ে লালচে বাদামী ছাপ থাকে।
  • মিহি পশমের জন্য এ জাতের ভেড়া বিখ্যাত।

র‍্যামবোয়েলেট (Rambouillet)

  • র‍্যামবোয়েট জাতের ভেড়ার আদিবাস মূলত স্পেন তবে ফ্রান্সের রামবয়েলেটে এ জাতটির উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটে।
  • চিকন পশম জাতের মধ্যে সর্ববহৃৎ জাত। বেশ কষ্ট সহিষ্ণু এবং নিম্ন শ্রেণির চারণভূমিতেও বেশ সুন্দর চরে খায়।
  • যেকোন চিকন পশম জাতের মধ্যে এ জাত একটি উৎকৃষ্ট মাংস উৎপাদনের জন্য খ্যাত।
  • প্রাপ্ত বয়স্ক ভেড়ার ওজন ১০৫ থেকে ১২৫ কেজি এবং ভেড়ীর ওজন ৭০ থেকে ৯০ কেজি।
  • এ রং পরিবর্তনশীল তবে হালকা পীত বর্ণ থেকে সাদা বর্ণের হয় এবং বাদামী বা কালো ছাপ থাকে।
  • অধিকাংশ ভেড়ার শিং থাকে তবে শিংহীন স্ট্রেনও রয়েছে। কিন্তু ভেড়ীর থাকেনা।
  • চোখের নিচ থেকে মুখমণ্ডলসহ সমগ্র দেহ ঘন পশমে আবৃত।

চেভিয়োট (Cheviot)

  • মুখমন্ডল সাদা কিন্তু নাক, ওষ্ঠ ও খুর কালো, কানে মাঝে মাঝে কালো ছাপ দেখা যায়।
  • ভেড়া ও ভেড়ী উভয়ই শিংবিহীন।
  • মাথা ও পায়ে লম্বা পশম থাকে না। মাথা, পা ও কান সাধারণত ছোট সাদা লোম দিয়ে আবৃত থাকে।
  • মাংস উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এ জাতটি বেশ কষ্টসহিষ্ণু। পাহাড় বা পার্বত্যাঞ্চলে সহজেই বাস উপযোগী ।
  • ভেড়ার দৈহিক ওজন ৮০ কেজি এবং ভেড়ীর গড়ে ৫৫ কেজি হয়।
  • ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যে অবস্থিত চেভিয়োট পাহাড়ে এ জাতের ভেড়ার উৎপত্তি।
  • মাঝারী পশম উৎপাদনকারী জাত। আকৃতি ছোট, আঁটসাঁট দেহ।

সাউথডাউন (Southdown)

  • প্রাপ্তবয়স্ক ভেড়ার ওজন ৮০ কেজি এবং ভেড়ীর ওজন ৬০ কেজি।
  • মাথা চোট ও চওড়া যা টুপি সাদৃশ্য পশম দ্বারা আবৃত।
  • এ জাতের ভেড়া থেকে ২ থেকে ৪ কেজি ভেড়ালোম পাওয়া যায়।
  • হালকা বাদামী বর্ণের। ভেড়া ভেড়ী উভয়ের শিং থাকেনা।
  • ছোট পা, উৎকৃষ্ট দৈহিক গঠন ও মাংসের জন্য খ্যাত।
  • তবে মাথার লোমে চোখ ঢাকেনা।
  • ইংল্যান্ডের সাসেক্স জেলার সাউথডাউন এ ভেড়ার আদি বাসস্থান।
  • তবে ভেড়ার শিং বেরুনোর স্থানে চিহ্ন থাকে।

সাফ্লোক (Suffolk)

  • ইংল্যান্ডের দক্ষিণপূর্বে সাফ্ফল্ক, ইসেক্স ও নরফল্ক জেলায় এ জাতের ভেড়ার উৎপত্তি।
  • শিং থাকেনা তবে ভেড়ার অনেক সময় শিংয়ের চিহ্ন থাকে।
  • এ জাতের ভেড়ার মাথা, কান ও পা কালো হয়। মাথা ও কানে পশম হয়না।
  • মাঝারী পশম জাতের ভেড়া।

লিনকোলন (Lincoln)

  • ইংল্যান্ডের একটি বিখ্যাত ভেড়ার জাত। ইংল্যান্ডের পূর্ব উপস্থল এবং উত্তর সমুদ্রের ধারে লিনকোলন শায়ার জেলা এ জাতের উৎপত্তিস্থল।
  • সাধারণত সাদা রংয়ের হয় দেহে কালো ছাপ ধাকতে পারে। মাংসের জন্য বিখ্যাত এই জাতটির শিং থাকেনা।
  • ভেড়ার দৈহিক ওজন ২৫০ থেকে ৩৭৫ পাউন্ড এবং ভেড়ীর ২০০ থেকে ২৭৫ পাউন্ড হয়।

করিইডালি (Corriedale)

  • মাথা বেশ বলিষ্ঠ এবং চোখের নিচ পর্যন্ত পশমে আবৃত থাকে।
  • ভেড়ার ওজন প্রায় ১১৫ কেজি এবং ভেড়ীর ওজন প্রায় ৮৫ কেজি হয়।
  • করিইডালি জাতের ভেড়ার উৎপত্তি নিউজিল্যান্ড। রিনকোলন ভেড়া এবং মেরিনো ভেড়ীর সংকরায়নের মাধ্যমে এ জাতের সৃষ্টি।
  • প্রথম মাংস ও পশম উৎপাদনের জন্য এ জাতের সৃষ্টি করা হয়।
  • এ জাতের ভেড়ার দেহ বেশ বড় এবং সুগঠিত।

রোমনে মারশ (Romney Marsh)

  • এদের রং সাদা এবং ভোড়া ও ভেড়ী উভয়ই শিংহীন এবং মুখমন্ডল অনাবৃত।
  • অন্যান্য জাতের ভেড়া অপেক্ষা এ জাতের ভেড়া নিম্নসমতল চারণভূমিতে পালন উপযোগী।
  • ইংল্যান্ডের কেন্ট জেলার (County) রোমনে মারশ অঞ্চলের এ জাতের ভেড়ার আদি বাসস্থান।
  • প্রাপ্ত বয়স্ক ভেড়ার ওজন ৯০ থেকে ১১৫ কেজি বেং ভেড়ীর ওজন ৮০ থেকে ৯০ কেজি হয়।

পূর্বেই বলা হয়েছে বাংলাদেশে নগণ্য সংখ্যক ভেড়া রয়েছে। এসব ভেড়া কোন বংশজাত নয়। এদের দেশী জাতের ভেড়া বলা হয়।

দেশী জাতের ভেড়ার বৈশিষ্ট্য নিম্নে দেয়া হলো:

সাধারণত দেশী ভেড়া সাদা বর্ণের হয়, তবে বাদামী, কালো ও মিশ্রণ রংয়ের ভেড়াও দেখা যায়।

এদের দেহ ছোট, সেই অনুযায়ী মাথা ও কান হয়।

সোজা নাক ও হালকা ঘাড়, দৈহিক ওজন প্রায় ১৫-১৮ কেজি। প্রায় ১৫ মাসে দু’বার বাচ্চা হবার তথ্য রয়েছে।

দেশি ভেড়ার উল অতি নিম্নমানের। বাংলাদেশে ভেড়া প্রধানত মাংসের জন্য পালিত হয়।

প্রাচীনকালে ভেড়া প্রধানত মাংস উৎপাদনের জন্য পালিত হতো।

বর্তমান যুগে মাংস ছাড়াও ভেড়া পশম, লোম, চামড়া, দুধ ও জমির সার উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়।

শেষ দু’দশকে পৃথিবীতে ভেড়ার সংখ্যা বিশেষ করে আফ্রিকান ও আমেরিকান ট্রপিক্যাল এলাকায় প্রায় ১৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক এবং পুষ্টিগত অবস্থা উন্নয়নের সহায়ক হিসাবে গরু, ছাগল ও মহিষের পরেই ভেড়া পালন করা হয়।

ভেড়ার মাংসের পুষ্টিগত মান এবং স্বাদ ছাগলের মাংসের মতোই। অতি সামান্য খরচ ও সহজ পরিচর্যায় গরুর (Cow Rearing) সাথে ভেড়াপালন করা যায়।

চর এলাকার বাথান কিংবা যে কোন চারণ ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত কাঁচা ঘাস খাইয়ে অল্প খরচে বৎসরের শুকনা মরসুমে প্রায় সব সময়ই ভেড়া পালন করা যায়।

ভেড়া পালন করলে লাভ হতে পারে (Benefit of sheep farming) কারণ ভেড়া থেকে একই সাথে মাংস, দুধ ও পশম পাওয়া যায়।

ভেড়া পালনের জন্য আলাদা উন্নত বাসস্থানের প্রয়োজন হয় না। গরু ও ছাগলের সাথে একই সাথে ভেড়া পালন করা যায়। এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরাই যোগাড় করতে পারে।

ভেড়া পালনে প্রাথমিক খরচ তুলনামূলক অনেক কম। ভেড়ার মলমূত্র জমির সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এরা জমির আগাছা খেয়ে উপকার করে,জলাশয়ের ঘাস চরে খেতে পারে।

সর্বোপরি ভেড়ার রোগ-ব্যাধি অন্যান্য প্রাণী অপেক্ষা তুলনামূলক কম হয়। আরেকটি বড় সুবিধা হল, ভেড়া দলবদ্ধভাবে বসবাস ও বিচরণ করে, সুতরাং বাড়িতে চুরি হওয়ার সম্ভাবনা কম, চড়ানোর জন্য বাড়তি কর্মীর প্রয়োজন নেই, অপেক্ষাকৃত কম খেয়ে অধিক মাংস ও পশম উৎপাদন করে।

বিশ্বে কমপক্ষে ৮০০ জাতের গৃহপালিত ভেড়া আছে। তার মধ্যে ২০০ সুনির্দিষ্ট জাতের ভেড়া রয়েছে। এদের মলমূত্র কৃষি জমির সার হিসেবে ব্যবহার হয়।

বাংলাদেশে কোন বংশজাত ভেড়া নাই। পৃথিবীতে প্রায় ৯৫৩.৬১৪ মিলিয়ন ভেড়া আছে। বাংলাদেশে মাত্র ০.১১৫৮ মিলিয়ন ভেড়া রয়েছে বলে জানা যায়। এসব ভেড়া গ্রামাঞ্চলে কৃষকের ঘরে দু’চারটি করে পাালিত হয়।

তুলনামূলকভাবে নোয়াখালিতে ও বরিশালে ভেড়া পালিত হয় বেশি। আমাদের দেশী ভেড়ার লোম সাদা বর্ণের হলেও তা অযত্নে হলুদ দেখায়। এই পশমও অত্যন্ত মোটা ও নিম্নমানের। যা দিয়ে কেবল কম্বল তৈরি করা যায়।

প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশী ভেড়া থেকে মাংস ছাড়া দুধ বা পশম পাওয়া যায়না বললেই চলে। অতিরিক্ত ভেজা ও স্যাঁতসেতে আবহাওয়ার জন্য এদেশ ভেড়া পালনের জন্য কিছুটা অনুপযুক্ত।

শুষ্ক আবহাওয়া ও শীত প্রধান দেশ ভেড়া পালনের উপযোগী। এইরূপ দেশে প্রধানত পশম উৎপাদনের জন্য ভেড়া পালন করা হয়।

উৎকৃষ্ট পশমের জন্য মেরিনো জাতের ভেড়া উল্লেখযোগ্য। ভেড়ার শ্রেণি ও জাত চিহ্নিতকরণ, ভেড়া পরীক্ষা ও নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে পালন ও চিকিৎসার জন্য ভেড়ার দেহের বিভিন্ন অংশের নাম জানা আবশ্যক।

# ভেড়ার জাত # ভেড়ার জাতের নাম # ভেড়ার জাত পরিচিতি # ভেড়ার জাত # উন্নত জাতের ভেড়ার নাম # ভেড়ার উন্নত জাতের নাম # bheṛar jat poriciti # bheṛar unnoto jater nam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright Notice

কপি করা নিষিদ্ধ!